ভারতের দুই রাজ্যে ২৭ জনের প্রাণহানি

0 95

ভারত-পাকিস্তান ডেস্ক: ভারতের হিমাচল প্রদেশ ও পাঞ্জাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে হিমাচল প্রদেশে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৪ জনে। একই কারণে পাঞ্জাবে প্রাণহানির সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৩।

রবিবারের (১৮ আগস্ট) ভারী বৃষ্টিপাতে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, প্রদেশ দুটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত দশগুণ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

এবারের বর্ষায় রবিবারই ছিল পাঞ্জাবের আর্দ্রতম দিন। পঞ্চ নদীর দেশে এদিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১৩০০ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, হিমাচল প্রদেশেও স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১০৬৪ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। কিন্তু, হঠাৎ এই মেঘভাঙা বৃষ্টিপাতের কারণ কী? এ বিষয়ে আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের এই দুই রাজ্যে ঘনীভূত নিম্মচাপের কারণেই উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্যদুটিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।

জানা গেছে, হিমাচল প্রদেশে সিমলায় মৃতের সংখ্যা ৯, সোলানে ৫, কুলু, সিরমার, চাম্বাতে ২ জন করে এবং উনা, স্পিতি ভ্যালিতে ১জন। এমতাবস্থায় কাংরার নূরপুর এবং সোলানের নালাগড়ে উদ্ধারকার্যের জন্য পৌঁছেছে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দল। সেই দলের এক কর্মকর্তার সূত্রে খবর, বৃষ্টি বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৯০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

ভারী বৃষ্টিপাতের পরই পাঞ্জাবের আট জেলার ২৫০টি গ্রামে জারি করা হয়েছে মাঝারি বন্যা সর্তকতা। রবিবারের এই ভারী বৃষ্টিপাতের পর রোপার হেড ওয়ার্কার্স বাধ থেকে প্রায় ২.৪০ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ার ফলে শতদ্রু নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলিতে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কা করেই আগাম সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ভাকরানাঙ্গাল বাঁধের ক্ষমতা সীমা পেরিয়ে গেছে। এমনকি পাঞ্জাবের তিনটি বাঁধের জলের স্তরও দ্রুত বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা।

পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হয়ে পড়ায় যেকোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। বেশ কয়েকটি জেলায় স্কুল বন্ধ রাখারও নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, বর্ষায় বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে দিন কাটানো পাঞ্জাবের এমন পরিস্থিতি কল্পনাও করতে পারছে না স্থানীয়েরা। সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x