ভারতে এক দিনে করোনায় আক্রান্ত ২ লাখ

0 108
ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে করোনায় মৃত ব্যক্তির স্বজনের আহাজারি। ছবি : রয়টার্স

ভারতে ২৪ ঘণ্টায় নভেল করোনাভাইরাসে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারতে করোনা শনাক্ত হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা এক কোটি ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড এ তথ্য জানিয়েছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক ডজনেরও বেশি হোটেল এবং বিয়ের হলগুলোকে কোভিড-১৯ হাসপাতালে রূপান্তর করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

নয়াদিল্লির সরকারি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এস কে সারিন বলেছেন, ‘সংক্রমণের এই হার উদ্বেগজনক।’

ভারতের বড় শহর ও অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাইয়ে করোনাভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে লকডাউন দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্র রাজ্যের বেশির ভাগ শিল্প, ব্যবসা ও জনসমাগম বন্ধ করা হয়েছে এবং ১৫ দিনের জন্য মানুষের অবাধ চলাচল সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তবে ট্রেন ও উড়োজাহাজ পরিষেবা চালু রয়েছে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসী শ্রমিকেরা মুম্বাই ছেড়ে যাওয়ার কারণে ট্রেন স্টেশনে উপচেপড়া ভিড় ছিল।

 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে দুই লাখ ৭৩৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৮ জনের। গত বছর সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক লাখ ৭৩ হাজার ১২৩ জন মারা গেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পর করোনা শনাক্তে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত এবং মৃত্যুর দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। করোনা শনাক্তে ব্রাজিলের অবস্থান তৃতীয় ও মেক্সিকো চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তবে ভারতের ১৪০ বিলিয়ন জনসংখ্যার মধ্যে করোনা শনাক্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে কারণ দেশটির করোনা শনাক্ত পরীক্ষার কার্যক্রম সীমিত।

 

ভাইরোলজিস্ট শহীদ জামিল বলেছেন, সাম্প্রতিক স্থানীয় ও রাজ্য নির্বাচনের বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ এবং হিন্দুদের বড় উৎসব কুম্ভমেলায় উত্তরের শহর হরিদ্বারের গঙ্গা নদীতে স্নান করা ছিল করোনা সংক্রমণ বিস্তারের বড় কারণ।

 

ভারত তার টিকা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গতকাল বুধবার ৩০ লাখের বেশি ডোজ দিয়ে মোট টিকা ১১৪ মিলিয়ন ছাড়িয়েছে।

 

মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট এবং আরও বেশ কয়েকটি রাজ্যের হাসপাতালে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

 

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের শ্মশান ও সমাধিস্থলগুলোতে শেষকৃত্যের জন্য আগত লাশের সংখ্যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x