ভোটের আগে কারা এই মেনটর!

217

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পপনা বাস্তবায়নে সারাদেশে ৪৫ জন পরামর্শক (মেন্টর) নিয়োগ দেয় সরকার। একই দিন নির্বাচনের জন্য সারা দেশে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের চেয়ে মেন্টররা সবাই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। মেন্টরদের অধিকাংশকেই আবার নিজ জেলায় নিয়োগ দেওয়া হয়।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি অভিযোগ করে, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ করতেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এই মেন্টরদের। বিএনপির এমন অভিযোগের পর ইসি বলছে, ইতোমধ্যে এই নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বরাবর এই নিয়োগ বন্ধ করতে চিঠি দেয়। চিঠিতে সই করেন বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চিঠিতে বলা হয়, ‘প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ও প্রতিশ্রুত প্রকল্পগুলো নির্বাচনকালীন সময়ে বাস্তবায়ন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডকে ব্যাহত করবে, যা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অজানা থাকার কথা নয়। তা ছাড়া পরামর্শক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সবাই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। অধিকাংশ কর্মকর্তাকে নিজ জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনে নিশ্চিতভাবে বিঘ্নিত ও বিব্রত করবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসক/রিটার্নিং কর্মকর্তারা উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা যারা, এসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অধীনে চাকরি করেছেন বা এখনো করছেন কিংবা প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আছেন।’

এই মেন্টরদের তালিকায় রয়েছে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদেরও নাম। বিএনপির এমন অভিযোগের পর এ দিন সন্ধ্যায় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ৮ নভেম্বর ৪৫টি জেলাতে সরকারি কর্মকর্তা ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৪৫ জনকে মেন্টর করেছিল। ১৩ নভেম্বর এই আদেশ স্থগিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এ বিষয়টি পূর্ব প্রচলিত। যেহেতু এটা স্থগিত হয়ে গেছে, সে জন্য এটা নিয়ে আর কোনো বিষয় নেই।’

তফসিল ঘোষণার দিন মেন্টর নিয়োগ করা হয়। ইসিকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি অভিহিত নই।’

গত ৮ নভেম্বর ৪৫ জন মেনটরকে নিয়োগ দেওয়ার পর ১৩ নভেম্বর তা স্থগিত করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিভাগে তালিকায় রয়েছেন মাদারীপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ, নরসিংদীতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব এম এ এন সিদ্দিক, টাঙ্গাইলে সেতু বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম, কিশোরগঞ্জে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিব সম্পদ বড়ুয়া, শরীয়তপুরে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদার ও গোপালগঞ্জে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ইউসুফ হারুন।

ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে রয়েছেন জামালপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ, ময়মনসিংহে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সুবীর কিশোর চৌধুরী, নেত্রকোনায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান ও শেরপুরে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মো. আবদুস সামাদ।

খুলনা বিভাগের মধ্যে রয়েছেন যশোরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান, বাগেরহাটে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. নমিতা হাওলাদার, ঝিনাইদহে কৃ্ষি মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব শ্যামল কান্তি ঘোষ, খুলনায় ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুল হান্নান এবং মাগুরায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন।

রাজশাহী বিভাগের মধ্যে রয়েছেন চাপাঁইনবাবগঞ্জে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জিল্লুর রহমান, সিরাজগঞ্জে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির আনোয়ার, নওঁগায় পরিসংখ্যান তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পাবনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও নাটোরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান।

রংপুর বিভাগের মধ্যে রয়েছেন রংপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার মো. ইফতেখার হায়দার, গাইবান্ধায় মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান, কুড়িগ্রামে ভূমি সংস্কার বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মাহফুজুর রহমান, পঞ্চগড়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক ও ঠাকুরগাঁওয়ে জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুল ইসলাম।

সিলেট বিভাগের মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জে প্রধান তথ্য কমিশনার মরতুজা আহমদ, সিলেটে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল জলিল, হবিগঞ্জে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব আশোক মাধব রায় ও মৌলভীবাজারে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব মো. মফিজুল।

বরিশাল বিভাগের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালীর তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল মালেক, ভোলায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সচিব নাজিমুদ্দিন চৌধুরী, বরিশালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আবদুল হালিম, ঝালকাঠিতে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল ও পিরোজপুরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া।

চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে রয়েছেন খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, কক্সবাজারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, চট্টগ্রামে বিপিএটিসির সাবেক রেক্টর আ ল ম আবদুর রহমান, কুমিল্লায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার বিভাগের সচিব এন এম জিয়াউল আলম, ফেনীতে সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, নোয়াখালীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, বান্দরবানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিসিএস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর মো. মোশারফ হোসেন ও চাঁদপুরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

x