মে মাসেই বাজারে আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম

60
স্টাফ রিপোর্টার : গুটি থেকে এখন আটিঁসহ পরিপক্ক হয়েছে ফলের রাজা আম। আর এতেই আমের রাজধানীখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। শুরু হয়েছে আম পাড়ার প্রস্তুতি। চলতি বছর ফলন কম হলেও এনিয়ে উৎসাহ আর উদ্দীপনার শেষ নেই। ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমচাষী ও ব্যবসায়ীরা। ইতোমধ্যে বাগানে বাগানে বসেছে আম পাড়া ও বাজারজাত করার ঘর।
এদিকে, আম বাজার গুলোতে আড়ৎ তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে। এখন কবে আসবে বাজারে পাকা আম সবাই রয়েছেন সেই অপেক্ষায়। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, শীঘ্রই হবে অপেক্ষার অবসান। তবে গতবছরের ন্যায় এবারও থাকছে না আম ক্যালেন্ডার। অর্থাৎ আম পাড়ার কোন সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করবে না প্রশাসন। তবে অপরিপক্ক আম বাজারজাত করলে কঠোরভাবে তা দমন করা হবে।
আমের রাজধানীখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজারে আসবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বাজারে আসবে গোপালভোগ জাতের আম। মে মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যেই গোপালভোগ আম পাঁকতে শুরু করে। একই সময়ে বাজারে আসবে মহানন্দা ও গুটি জাতের আম।
জানা যায়, বারি-২ বা লক্ষনভোগ ও ক্ষিরসাপাত আম জুনের প্রথম সপ্তাহে পাঁকা শুরু হবে। এরপর জুনের মাঝামাঝি সময়ে ল্যাংড়া ও মাসের শেষের দিকে বাজারে আসবে ফজলী আম। এমনকি ফজলী আমের পরপরই এক সপ্তাহ পর বাজারে আসবে বারি-৪ ও আম্রপালী জাতের আম। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ ও মাঝামাঝি সময়ে আসবে আশ্বিনাসহ আরও কয়েকটি নাবী জাতের আম।
সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের চাঁপাই-মহেশপুর গ্রামের আমচাষী আপন রেজা নিসান বলেন, বছরের প্রথম আম পাঁকে গোপালভোগ। এর সাথে আরও কিছু গুটি জাতের আম বাজারে আসে। চলতি মৌসুমে গোপালভোগ আম পাড়তে আরও ১২ থেকে ১৫ দিনের মতো সময় লাগবে। মাসের শেষের দিকে এ জাতের আম বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গুটি জাতের আম এখনো পাকা দেখা যায়নি।
আমের আড়ৎদার আব্দুর রাকিব জানান, গোপালভোগ আর গুটি জাতের আম একসঙ্গে বাজারে আসে। আমরা বাগান কিনে রেখেছি। সব ধরনের আমের ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা আছে। চলতি মাসের ২৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে গোপালভোগ বাজারে আসবে বলে আশাবাদী।
শিবগঞ্জ ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিডেটের সাধারণ সম্পাদক ও আম রফতানিকারক ইসমাঈল খান শামিম বলেন, এমনিতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে গোপালভোগ জাতের আমের গাছের সংখ্যা কম। তাও আবার এবার আমের অফ ইয়ার, মানে গাছে আম কম। অন্যদিকে, আবহাওয়াগত কারনেও এবার বাজারে আম আসতে দেরি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এখন বাজারে পাওয়া অনেক আমই অপরিপক্ক। তবুও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রাজশাহীর নামে এসব বাজারজাত করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এনিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও বেশি নজরদারি ও বাজার তদারকি বাড়াতে হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষনা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. ইউসুফ জানান, এ মাসের ২০ তারিখের পর থেকে সবাই আমের স্বাদ নিতে পারবেন। তবে ভালো আম পেতে আরও একটু অপেক্ষা করতে হবে। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ফল একটু আগে ও পরে পাকতে পারে। গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির কারনে চলতি মাসে আবহাওয়া কিছুটা শীতল থাকলে আম পাঁকতে এক সপ্তাহ দেরি হতে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে সঠিক সময়েই আম পাঁকবে ও বাজারে আসবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, এবছর গাছ থেকে আম সংগ্রহের নিদিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। সময় বেঁধে দিলে অনেক ক্ষেত্রে অপরিপক্ব আমও পাড়া হয়। তবে আম ক্যালেন্ডার না থাকলেও অপরিপক্ক আম বাজারজাতের বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারিতে রাখা হবে। এমনকি এনিয়ে কৃষকদেরকে সচেতন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশের মধ্যে সুমিষ্ট আম সরবরাহে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশেষ সুনাম রয়েছে। এই সুনামলে কাজে লাগিয়ে অনেকেই অন্য জেলার আমকে কেমিকেল মিশিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বলে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা শহরে বাজারজাত করছে। এবিষয়ে ভোক্তাদেরকে সর্তক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবছর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হয়েছে। প্রায় ৫৫-৬০ লাখ গাছে চলতি মৌসুমে কৃষি বিভাগ জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৩ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। গতবছর জেলায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আড়াই লাখ মেট্রিক টন এবং তার আগের বছর ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে ২ লক্ষ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয়েছে।
x