মোহনপুরে অপ্রয়োজনীয় মিশুক ষ্ট্যান্ড নির্মাণে শতাধিক বাড়ী ও দোকানের ক্ষতি- প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসনে আবেদন

১৬২
Exif_JPEG_420

মোহনপুর প্রতিনিধি : রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার রাজশাহীর নওগাঁ মহাসড়কের সইপাড়া মোড়ে প্রয়োজন না থাকলেও মিশুক ষ্ট্যান্ড তৈরীর স্থানে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ওই মোড়ে অবস্থিত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে। এবিষয়ে দোকান ও বসত বাড়ীর মালিকরা গত ১৯ জুন লিখিত গণস্বাক্ষরিত আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসনের নিকট করলেও পরের দিন ২০ জুন সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী জেলাধীন মোহনপুর উপজেলার রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের সইপাড়া মোড়ে প্রয়োজন না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কথিত এপিএস মোঃ হুমায়ন কবির ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রভাবিত করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) প্রকল্পের আওতায় কয়েক লক্ষাধিক টাকার বরাদ্দ নিয়ে উল্লেখিত স্থানের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান ঘর উচ্ছেদ করে সেখানে মিশুক ষ্ট্যান্ড স্থাপনের চেষ্টায় করছেন। সেই লক্ষে মোড়ে রাস্তার উত্তরাংশে অবস্থিত হত-দরিদ্র ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একমাত্র আয়ের উৎস প্রায় ১৫ টি দোকান ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে করে ১৫ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ প্রায় শতাধিক পরিবার ক্ষতিগস্তের শিকার হলো।

অভিযোগ পত্রে ভুক্তভোগীরা আরো উল্লেখ করেছেন, উক্ত স্থানে মিশুক স্ট্যান্ড বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা না থাকলেও পবা-মোহনপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিনের তুলশীক্ষেত্রে অবস্থিত এমপি‘র “জলসা ঘর” নামে খ্যাত স্পটে যাতায়াতের সুবিধার্থে ক্ষমতার অপব্যহার করে সরকারি অর্থ বরাদ্দ নিয়ে তার অপচয় করে সেখানে গরীব-দুঃখী মানুষের পেটে লাথি মেরে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। এটা চরম অন্যায় ও দুঃখী গরীব মানুষের উপর অবিচার করা হচ্ছে।

এ ঘটনার সঠিক তদন্তপূর্বক সেখানে প্রকৃত ভাবে কোন মিশুক ষ্ট্যান্ডের প্রয়োজনীয়তা আছে কি না তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট। মোড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাহাবুর বলেন, এখানে মিশুক ষ্ট্যান্ডের কোন দরকার নেই। অথচ এমপি ও উপজেলা পরিষদ এর চেয়ারম্যান তাদের তুলশীক্ষেত্রে অবস্থিত ওয়াটার পার্কে দর্শনার্থীদের যাওয়ার সূবিধার্থে আমাদের মত অসহায় মানুষের পেটে লাঠি মেরে মিশুক ষ্ট্যান্ড নির্মাণ করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাড়ীর মালিক,আফজাল হোসেন জানান, ওই স্থানে মাটি ভরাট হলে মোড়ের পার্শ্ববর্তী পাড়ার পানি নিষ্কাষনের জন্য সদ্য নির্মিত দুটি, কালভার্ট ভরাট হয়ে যাবে। যার কারনে এ পাড়ার পানি নিস্কাষনের পথ বন্ধ হয়ে যাবে এবং বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি
হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবো শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ী।

এ বিষয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানওয়ার হোসেন বলেন, দোকান ঘর উচ্ছেদের সত্যতা স্বীকার করে জানান, যদি মালিকানা দোকান ভাংচুর হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্তরা অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন।

এমতাবস্থায় সরজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে দরিদ্র বসতিগুলো রক্ষাসহ অপ্রয়োজনীয় মিশুক ষ্ট্যান্ড স্থাপন স্থগিত করে ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন অত্র এলাকার সচেতন মহল।
জাহিদুর রশিদ

Comments are closed.