রংপুরেই দাফন চেয়েছিলেন কাদের, তবে রওশনের কারণে…

0 231

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট: নিজ দুর্গখ্যাত রংপুরের নেতাকর্মী, এরশাদ ভক্তদের তীব্র বাধা ও প্রতিরোধের মুখে অবশেষে রংপুরের পল্লীনিবাসেই দাফন করা হচ্ছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ (এইচএম) এরশাদকে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে জানাযা শেষে হেলিকপ্টার যোগে লাশ ঢাকার নেয়ার চেষ্টার সময় নেতাকর্মীদের তীব্র প্রতিরোধের কারণে রংপুরেই দাফনের সিদান্তের কথা জানান এরশাদের ছোটভাই ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি জানান, আমরা প্রথম থেকেই চাচ্ছিলাম এরশাদকে রংপুরে সমাহিত করবো। তবে ভাবি (রওশন এরশাদ) বিভিন্ন কারণে চাচ্ছিলেন তাকে ঢাকায় দাফন করতে। তবে রংপুরের মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার কারণে সর্বসম্মতভাবে আমরা তাকে এখানেই সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভাবিও এতে রাজি হয়েছেন।

এরশাদের কবরের পাশে রওশন এরশাদ নিজের জন্য কবরের জায়গা রাখার অনুরোধও করেছেন বলে জানান জিএম কাদের।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী ব্রেকিংনিউজকে জানান, ‘রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে রংপুরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন বেগম রওশন এরশাদ। পাশে রওশন এরশাদের জন্য কবরের জায়গা রাখার অনুরোধও করেছেন তিনি।’

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে দেড়টায় যোহরের নামাজের পরই জানাজার পরার সিদ্ধান্ত ছিল। রংপুরের এরশাদের দাফন করতে হবে- এই ঘোষণা দেয়া না পর্যন্ত নেতাকর্মীরা জানাজা পড়তে দেননি। পরে নানা অনুরোধে দুপুর আড়াইটার দিকে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষ হতে না হতেই নেতাকর্মীরা লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে ধরেন, ব্যারিকেড তৈরি করেন। হাজার হাজার নেতাকর্মীরা অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে পল্লীনিবাসের দিকে রওনা হোন।

অ্যাম্বুলেন্সের সামনে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা, সিটি মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফাসহ দলের শীর্ষ নেতারা। পরে রংপুরেই দাফনের ঘোষণা দেন জিএম কাদের।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও পুরনো বিমানবন্দর থেকে এরশাদের মরদেহবাহী হেলিকপ্টার রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে বিমান বাহিনীর একটি সাদা হেলিকপ্টারযোগে এরশাদের লাশ ঢাকা থেকে আনা হয় রংপুর ক্যান্টনমেন্টে। সেখান থেকে চতুর্থ জানাজার জন্য মরদেহবাহী গাড়ি কালেক্টরেট মাঠে পৌঁছায় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে।

এই কালেক্টরেট মাঠেই বাদ জোহর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে জানাজার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে প্রশাসন। সকাল থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে লোকজন জানাজায় শরিক হতে ঈদগাহ মাঠে আসতে শুরু করে। জানাজায় অংশ নিতে এবং তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে রংপুরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে লাখো মানুষের ঢল নামে।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী, এরশাদ ভক্ত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলার লাখো মুসল্লি।

এসময় মূল মাঠ পেরিয়ে পাশের ক্রিকেট গার্ডেন, রংপুর সরকারি কলেজ মাঠ, রংপুর স্টেডিয়াম, পুলিশ লাইন স্কুল মাঠ, পাসপোর্ট অফিস এলাকা, সুরভী উদ্যানসহ নগরীর প্রধান সড়কে মানুষ দাঁড়িয়ে জানাজার নামাজ আদায় করেন।

১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করা এরশাদ গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x