রাণীনগরে কাটরাশইন-গহেলাপুর গ্রামীণ রাস্তা খানা-খন্দে ভরা

334

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কাটরাশইন-গহেলাপুর গ্রামীণ রাস্তার মাঝে মাঝে বড় বড় খানা-খন্দে ভরা যেন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। রাস্তার কোথাও কোথাও পুরো অংশ ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিনিয়তই স্কুলের শিক্ষার্থীসহ যাত্রী সাধারণদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আর ঘটেই চলেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনার। বর্তমান সরকার যেখানে গ্রামে শহরের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে বধ্য পরিকর সেখানে গ্রামীন এই রাস্তার বেহাল দশার দীর্ঘ সময় পার হলেও তা সংস্কার করার কোন খবর নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

জানা গেছে, রাণীনগর উপজেলার কাটরাশইন-গহেলাপুর রাস্তার প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা বর্তমানে খানা-খন্দে ভরা মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে কাটরাশইন, পোঁওয়াতাপাড়া, গহেলাপুরসহ প্রায় ৫-৭টি গ্রামের মানুষদের প্রতিনিয়তই চলাচল করতে হয়। চলাচলের জন্য এই রাস্তাটি একমাত্র পথ হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে কোন মতে চলাচল করা গেলেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় বর্ষা মৌসুমে। দিনে কিংবা রাতে চলাচলের সময় রাস্তার ভেঙ্গে যাওয়া অংশে উল্টে পড়তে হয় মানষদের। যাতায়াত করতে পারেনা ভ্যানগাড়ী, সাইকেলসহ ছোটখাটো যানবাহন। যেন দেওখার কেউ নেই। কাটরাশইন গ্রামের মন্টু সিপাই বলেন, আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করি। যার কারণে দীর্ঘ সময় পার হলেও গ্রামীণ এই অবহেলিত মরণ ফাঁদ রাস্তায় এখনো পর্যন্ত আধুনিকতার কোন ছোঁয়াই লাগেনি। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অনেকবার জানানোর পরও রাস্তাটি এখনোও বেহাল দশায় পড়ে আছে। দ্রুত এই রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।    এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম শফু বলেন, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য সকল কাগজপত্রাদি উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে জমা দিয়েছি। আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী সাইদুর রহমান মিঞা বলেন, বেহাল দশা এই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য উপড়মহল বরাবর প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। বরাদ্দ পেলেই সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে।

 

রাণীনগরে নির্মাণাধীন বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় গ্রেফতার এক

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে বাড়ির সামনে বাড়ি করা ও দাবিকৃত সম্পত্তি না দেওয়ায় স্বপনের নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে এসে হাঁসুয়া, লাঠি, গ্রিল মেশিন নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় ঝিনা গ্রামের মুন্টু প্রামানিকের নির্মাণাধীন বাড়ি দিনদুপুরে ভেঙ্গে দেওয়া ও নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষতিগ্রস্থ্য মুন্টু প্রামানিক বাদি হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রাণীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি উপজেলার পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত জনাবের ছেলে জাকির হোসেন ওরফে জেমস (৩২) কে গ্রেফতার করে শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনা নিয়ে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে এই রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত মামলার এজাহারভুক্ত ঘটনার মূলহোতাসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি রাণীনগর থানা পুলিশ।

উল্লেখ্য, রাণীনগর উপজেলার ঝিনা পূর্বপাড়া গ্রামের মুন্টু প্রামানিক তার পৈত্রিক সম্পত্তিতে গত দুই মাস আগে ইটের বাড়ি নির্মাণ করা শুরু করেন। এ সময় প্রতিবেশি শাহাদত আহম্মেদ স্বপনের দু’তলা ইটের বাড়ির রাস্তা থেকে দেখা যাবে না বলে ওই জায়গাটি তার কাছে এওয়াজ বদল করার জন্যে মুন্টুকে চাপ শুরু করেন স্বপন। তারপরও মুন্টু তার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ওই সম্পত্তির উপর আরসিসি দিয়ে বাড়ির কাজ শুরু করেন। ঘরের ছাদ ঢালাই দেবেন এমন তথ্যে পেয়ে ছাদ যেন দিতে না পারেন এ জন্যে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপনের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাড়া করা বহিরাগত ৫০/৬০ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে এসে হাঁসুয়া, লাঠি, গ্রিল মেশিন নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে রাণীনগর থানার ওসি জহুরুল হক বলেন, এ ঘটনায় মুন্টু প্রামানিক বাদি হয়ে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৩০-৩৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে রাণীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

x