রাষ্ট্রপ্রধান থেকে ব্রিটিশ রানিকে বাদ দিচ্ছে বার্বাডোস

1
এক সময়কার ব্রিটিশ উপনিবেশ বার্বাডোস আগামী সপ্তাহে রানি এলিজাবেথকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে যাচ্ছে। ছবি : সংগৃহীত

এক সময়কার ব্রিটিশ উপনিবেশ বার্বাডোস আগামী সপ্তাহে রানি এলিজাবেথকে তাদের রাষ্ট্রপ্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে যাচ্ছে।

প্রায় ৪০০ বছর আগে ক্যারিবীয় দ্বীপটিতে ইংরেজদের প্রথম জাহাজ যাওয়ার পর থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সঙ্গে তাদের যে সম্পর্ক, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে থাকা রানির নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে তার চূড়ান্ত অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

এলিজাবেথ এখনও বার্বাডোস এবং আরও ১৫টি দেশের রানি; এসব দেশের মধ্যে যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও জ্যামাইকাও আছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

রানির নাম ছেঁটে ফেলাকে বার্বাডোস দেখছে আত্মবিশ্বাসের প্রতীক এবং ঔপনিবেশিক ইতিহাসের দানবদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের উপায় হিসেবে।

‘মনে, দেহে ঔপনিবেশিক শোষণের কাহিনী এখানেই শেষ,’ বলছেন বার্বাডোসের ইতিহাসবিদ অধ্যাপক হিলারি বেকলস। রানির নাম ছেঁটে ফেলাকে বার্বাডোসের পাশাপাশি ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং উত্তর-ঔপনিবেশিক সব সমাজের জন্য ঐতিহাসিক ক্ষণ বলেও অ্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।

‘এই দ্বীপের জনগণ কেবল স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করেনি, সংগ্রাম করেছে নিজেদের ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদীদের অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে,’ বলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ভাইস চ্যান্সেলর।

রয়টার্স লিখেছে, নিজেদের স্বাধীন ঘোষণার ৫৫ বছর পর বার্বাডোস প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরিত হচ্ছে। মুক্ত হচ্ছে প্রায় সব ঔপনিবেশিক বন্ধন থেকে, যে বন্ধনের সূত্রপাত হয়েছিল ১৬২৫ সালে; যে বছর ইংরেজদের একটি জাহাজ রাজা প্রথম জেমসের নামে দ্বীপটির দখল নিয়েছিল।

বার্বাডোস তাদের ‘হেড অব স্টেট’ থেকে রানিকে ছেঁটে ফেলার মধ্য দিয়ে অন্যান্য সাবেক ব্রিটিশ কলোনি দেশগুলোকেও ব্রিটিশ রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে উৎসাহ জোগাতে পারে।

এমন এক সময়ে ক্যারিবীয় দ্বীপ দেশটি তাদের মাথার উপর থেকে রানিকে সরিয়ে দিতে যাচ্ছে, যখন ব্রিটিশ রাজপরিবারও এলিজাবেথের প্রায় ৭০ বছরের রাজত্ব শেষে প্রিন্স চার্লসের অভিষেকের দিন গুণছে।

প্রজাতন্ত্রে উত্তরণ উদযাপনে বার্বাডোসের রাজধানী ব্রিজটাউনের অনুষ্ঠানগুলোতে প্রিন্স চার্লসেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আর বাকিংহাম প্যালেস বলেছে, রানির নাম থাকবে কী থাকবে না, এটি বার্বাডোসের জনগণের বিষয়।

x