রোগীদের বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বাধ্য করা হচ্ছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

২৯৫
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ছবি : এনটিভি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সরকারি হাসপাতালে যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। অথচ রোগীদের বাইরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বাধ্য করা হচ্ছে। দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোসহ সব সরকারি হাসপাতালে সিসিটিভি বসিয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারির আওতায় আনা হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দেশের হাসপাতালগুলোতে বিরাজমান পরিস্থিতি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি হাসপাতালেই এক্সরে মেশিনসহ সব ধরনের যন্ত্রপাতি নিশ্চিত থাকার কথা। অথচ সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করানো হয়। এতে সরকারি অর্থে কেনা মেশিনগুলো অকেজো হয়ে যায়। অন্যদিকে দেশের সাধারণ মানুষ সরকারের বিনামূল্যে দেওয়া সেবা না পেয়ে, অন্যত্র বেশি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হয়। এটি আর চলতে দেওয়া যাবে না। দ্রুতই হাসপাতালগুলোতে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে সেন্ট্রালি নজরদারিতে রেখে জনগণের সঠিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ গোটা দেশবাসী কোভিড নির্মূলে একযোগে একে অপরকে সহায়তা করেছে। তবে, এর মাঝেও টেলিমেডিসিন সেবা বৃদ্ধি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, আইসিইউ সংখ্যা বৃদ্ধি, সময়মতো ভ্যাকসিন আনা, টাকার জোগান দেওয়া, ভ্যাকসিন সোর্স বের করাটাও কোভিড নির্মূলে কম ভূমিকা রাখেনি।

ভ্যাকসিন সম্পর্কে এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, করোনা মোকাবিলায় এ পর্যন্ত প্রথম ডোজ ১৩ কোটি, দ্বিতীয় ডোজ ১১ কোটিসহ লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ ভাগ মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এখনও হাতে ৫ কোটি ডোজ ও পাইপলাইনে আরও ৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন রয়েছে। এখন দেশের অবশিষ্ট মানুষগুলো ভ্যাকসিন গ্রহণ করলে দেশ আরও বেশি উপকৃত হবে। এসব কথা বিবেচনা করে গণটিকা কার্যক্রম আরও তিন দিনের জন্য বর্ধিত করা হলো। এখন থেকে গণটিকা কার্যক্রম ৩ এপ্রিল পর্যন্ত আগের নিয়মে চলমান থাকবে।

গত ৩ বছরে দেশের হাসপাতালগুলোতে নতুন প্রায় ৮০০টি অ্যাম্বুলেন্স, ৪৫০টি জিপ গাড়ি দেওয়া হয়েছে বলে সভায় এসময় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দেশের করোনা সংকটেও প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসক, ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়াসহ প্রায় ১০০টি হাসপাতালে টেলিমেডিসিন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। মাত্র একটি টেস্টিং ল্যাব থেকে সাড়ে ৮০০ ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৪-৫টি সেন্ট্রাল অক্সিজেন হাসপাতাল থেকে এখন ১৩০টিরও বেশি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নিটোর হাসপাতালে ৫০০ বেড, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৫০০ বেড, এনআইসিবিডি-তে প্রায় ৮০০টি নতুন বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করাসহ, ৮ বিভাগে ৮টি উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলো কাজ স্বাস্থ্যখাতকে আরও গতিশীল করবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম-এর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. সাইফুল হাসান বাদল, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম আবদুল আজিজ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. বারডন জাং রানা, এইচএসএস কোর কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম প্রমুখ।

Comments are closed.