লকডাউন তুলে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে সরকার: রিজভী

58

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম: দেশজুড়ে চলমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে লকডাউন খুলে দিয়ে সরকার মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আজকে ভয়ংকর পরিস্থিতিতে যখন সংক্রমণের মাত্রা বাংলাদেশে বৃদ্ধি পেয়েছে, ভাইরাস যখন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ছে, এমন সময় সরকার লকডাউন খুলে দিয়ে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। সরকারের কাছে অর্থনীতি আগে, বড় বড় ব্যবসায়ীদের স্বার্থ আগে- মানুষের জীবন চলে যাচ্ছে এটা বড় কথা নয়।’

শুক্রবার (৮ মে) গাজীপুর মহানগর যুবদলের উদ্যোগে টঙ্গী বাজার এলাকায় ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে মানুষের লাশ রাস্তাঘাটে পড়ে থাকছে। টেস্ট করার কোনও উপায় নাই। পর্যাপ্ত মেডিকেল সহায়তা নেই। এটা সরকার খেয়াল করছে না। এটার কোনও গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। মানুষের জীবন তাদের কাছে বড় নয়, তাদের কাছে টাকা অনেক বড় কথা। যে খাদ্য ছিল তা দিয়ে ২-৩ মাস গরিব মানুষকে চালাতে পারতাম। বাড়িতে বাড়িতে খাদ্য পৌঁছে দিতে পারতাম। নিশ্চয়ই পারতাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনীকে দিয়ে যারা গার্মেন্টসে কাজ করে, দিন আনে দিন খায়, রিকশাচালক তাদের সবাইকে খাদ্য সহায়তা দিতে পারতাম। সরকার সেদিকে যায়নি। সরকারের কথা হচ্ছে- ‘মানুষ মরুক, আমার যায় আসে না। আমার হাতে টাকা থাকাটাই বড় বিষয়’।’ব্রেকিংনিউজ

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘পর্যাপ্ত মেডিকেল ইকুইপমেন্ট না পেয়ে হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স মারা যাচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করছে তাদের বরখাস্ত করা হচ্ছে, চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাক্তার আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘এটা করা ঠিক হচ্ছে না’। প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি করেছেন করোনা প্রতিরোধের জন্য। বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি তারাও প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন- ‘আপনি পুনর্বিবেচনা করুন, এখন লকডাউন খুলবেন না’। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সারা পৃথিবীর মধ্যে করোনায় ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। কিন্তু সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর কোনও ভ্রুক্ষেপ নাই। আজকে রাস্তাঘাট খুলে দেয়া হয়েছে, যানবাহন চলছে, গার্মেন্টস খুলে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার লোক কাজে যাচ্ছে। এতে কত লোক করোনায় আক্রান্ত হবে তা কল্পনাও করতে পারছে না সরকার। সেই আক্রান্তদের তখন না থাকবে চিকিৎসা না থাকবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। মৃত্যুর দিকে মানুষকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। এই সরকার এরকম পরিস্থিতির মধ্যে দেশ পরিচালনা করছে। এই পরিচালনা হচ্ছে ধ্বংসের পরিচালনা, এ পরিচালনা হচ্ছে মৃত্যুর দিকে মানুষকে ঠেলে দেয়ার পরিচালনা।’

ত্রাণ বিতরণের সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘লকডাউনে গরিব মানুষ, কৃষক-শ্রমিক, দিন আনে দিন খায় তাদের চলবে কী করে। পেটের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে, এটা কিছুই মানতে চায় না। আমাদের দল বিএনপির নেতাকর্মীদেরকে বলেছি, সারা দেশের মানুষের সাথে থাকতে। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুই বছর অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছিল। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছেন। আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, সকল স্তরের নেতাকর্মীরা যেন মানুষের পাশে দাঁড়ায়। বিএনপির নেতাকর্মীরা খাবেন অন্যরা খাবে না এমন যেন না হয়। আমরা সেটাই চেষ্টা করছি। নিজেদের টাকায় কেনা খাদ্যসামগ্রী আমরা ১৩ লক্ষ পরিবারকে উপহার হিসেবে দিয়েছি। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলের নেতাকর্মীরা সারা দেশে ত্রাণ বিতরণ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারে নেই, আমরা সরকারের জুলুমের মধ্যে আছি। আমাদের অনেক ছাত্রদল, যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করছে। কেন? কারণ, তারা মানুষকে ত্রাণ দিচ্ছে। আর তারা নিজেরা জনগণের টাকায় কেনা ত্রাণ মালামাল চুরি করছে, লুটে নিচ্ছে।’

ত্রাণ বিতরণের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সরকার জাবেদ আহমেদ, গাজীপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি প্রভাষক বশির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ভাট, সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

x