শুভ জন্মদিন নেলসন ম্যান্ডেলা

0 461

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম : বিশ্বের নন্দিন অবিসংবাদিত এক রাষ্ট্রনায়ক নেলসন ম্যান্ডেলা। বর্ণবাদবিরোধী লড়াইয়ে এক কিংবদন্তী। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি। একই সাথে দেশটিতে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি।

দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী সরকারের বর্ণবাদী নীতির বিপক্ষে সংগ্রাম এবং ত্যাগে জীবন যৌবন দানকারী এই অবিস্মরণীয় নেতার পুরো নাম নেলসন রোলিহ্লাহ্লা ম্যান্ডেলা।

আজ এ মহান নেতা ও রাষ্ট্রনায়কের ১০০তম জন্মদিন। ১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই থেম্বু রাজবংশে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় খুব চটপটে ছিলেন ম্যান্ডেলা। তাই তার নাম রাখা হয় ‘রোলিহ্লাহ্লা’ যার অর্থ হলো গাছের ডাল ভাঙে যে অর্থাৎ ‘দুষ্টু ছেলে’।

স্কুলে পড়ার সময়ে তার শিক্ষিকা মদিঙ্গানে তার ইংরেজি নাম রাখেন নেলসন। আর বংশগত ভাবে ম্যান্ডেলা নামটি সঙ্গে জুড়ে যায়। দেশটিতে ম্যান্ডেলাকে তার গোত্রের নাম অনুসারে ডাকা হয় মাদিবা। আফ্রিকার কালো মানুষের অবিসংবাদিত নেতা ম্যান্ডেলাকে স্থানীয় বাসিন্দারা এ নামেই চেনে।

আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, প্রখর রসবোধ, তিক্ততা ভুলে বৈরি প্রতিপক্ষের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয়ার মত উদারতা এবং তাঁর বর্ণাঢ্য ও নাটকীয় জীবন কাহিনী।

বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের এই মহান নেতা বিশ্বকে বেঁধে গেছেন ঐক্যের সুতোয়। যৌবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন কারাগারে। কারাগারের অন্ধ প্রকোষ্ঠ কেড়ে নিয়েছে তার জীবনের ২৭টি বছর।

দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষের মুক্তির পথ নিয়ে রচিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘নো ইজি ওয়াক টু ফ্রীডম’ ১৯৬৫ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি তিনি কারামুক্ত হন। এর পর তিনি তার দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশ নেন।

এর ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদের অবসান ঘটে এবং সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে ১৯৯৪ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এর পর ১৯৯৪ হতে ১৯৯৯ পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনিই ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি।

দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের সাথে শান্তি আলোচনায় অবদান রাখার জন্য ম্যান্ডেলা এবং রাষ্ট্রপতি এফ ডব্লিউ ডি ক্লার্ককে ১৯৯৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়। গত চার দশকে ম্যান্ডলা ২৫০টিরও অধিক পুরস্কার পেয়েছেন। তাছাড়াও তিনি ১৯৮৮ সালে শাখারভ পুরস্কারের অভিষেকে পুরস্কারটি যৌথভাবে অর্জন করেন।

২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ৯৫ বছর বয়সে গোটা দুনিয়ার কোটি কোটি ভক্তকে ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এ কিংবদন্তী।  ব্রেকিংনিউজ/

Leave A Reply

Your email address will not be published.