শ্বেতি রোগের চিকিৎসা

0 77

শ্বেতি নামে পরিচিত রোগটিকে চিকিৎসার পরিভাষায় ভিটিলোগো বলা হয়ে থাকে। এটি ত্বকের বিবর্ণজনিত একটি রোগ, যা ছোঁয়াচে কিংবা মারাত্মক নয়, তবে সৌন্দর্যহানি ঘটিয়ে থাকে অবশ্যই। সাধারণত যাদের গাঢ় বা শ্যামলা বর্ণের ত্বক, তাদেরই বেশি দেখা দেয়। শিশু, বয়স্ক, নারী, পুরুষ সবাই এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন।

শরীরের যেকোনো স্থান শ্বেতি আক্রান্ত হতে পারে, এমনকি চোখের ভ্রুসহ সমস্ত শরীর বিবর্ণ হয়ে যেতে পারে। এ রোগে ত্বকের এক বা একাধিক স্থানে রং হালকা থেকে দুগ্ধ সাদা হয়ে যেতে পারে।

কীভাবে শ্বেতি হয় : ত্বকে মেলানিন নামে এক ধরনের পিগমেন্ট/রঞ্জক থাকে, যার কারণে রং গাঢ় বা ফর্সা হয়। যাদের ত্বকে মেলানিন বেশি তারা কালো এবং যাদের কম তারা ফর্সা হয়ে থাকেন।

কী কারণে হয় : শ্বেতির নিশ্চিত কোনো কারণ অদ্যাবধি জানা যায়নি। তবে প্রধান দুটি কারণ হলো বংশগত (১০-১৫ শতাংশ) এবং শরীরে এক ধরনের স্ব-প্রণোদিত প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়ায় স্থানভেদে মেলানিন উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে। এ ছাড়াও, থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ, ডায়াবেটিস, বিশেষ ধরনের রক্ত শূন্যতা, পুষ্টিজনিত ঘাটতি, ত্বকে সংক্রমণ বা আঘাত, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, রৌদ্রতাপ, কিছু ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থের কারণে এ রোগ হতে পারে।

চিকিৎসা: এ রোগের কোনো নিশ্চিত চিকিৎসা এখন পর্যন্ত নির্ণীত হয়নি। চিকিৎসার মাধ্যমে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বেতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি আপনাআপনি ভালো হয়ে যায়। নানা উপায়ে শ্বেতির চিকিৎসা করা হলেও ফলাফল খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। শ্বেতির চিকিৎসা সাধারণত যেভাবে করা যায়, সেগুলো হলো:

এক. খাবার ঔষধ এবং ত্বকে ব্যবহার করার ঔষধের মাধ্যমে।

দুই. আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি এবং লেজার চিকিৎসার মাধ্যমে।

তিন. শ্বেতির সম্ভাব্য কারণসমূহ নির্ণয় করে সেটির চিকিৎসা। যেমন: পুষ্টিজনিত ঘাটতি বা থাইরয়েড রোগের চিকিৎসা।

চার. সার্জারির মাধ্যমে মেলানিন উৎপাদনকারী কোষ মেলানোসাইট গ্রাফট বা সম্পূর্ণ স্কিন গ্রাফট।

মনে রাখবেন, কুষ্ঠ এবং ত্বকের আরো কিছু রোগে ত্বক বিবর্ণ হতে পারে। ত্বকের কোনো স্থান বিবর্ণ বা সাদা হয়ে গেলে তা শ্বেতি বা অন্য কারণে হয়েছে কী না, সেটি নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। শ্বেতির লক্ষণ প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসা নিলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। (সংগৃহীত )

Leave A Reply

Your email address will not be published.