সংসদ ভোট: শরিকদের কাকে কয়টি আসন দিচ্ছে দুই জোট?

0 239

নিউজ ডেস্ক: নানা উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা আর শঙ্কা-সংশয়ের মধ্য দিয়ে ঘনিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচনের ভোট। আর এই ভোটকে ঘিরে প্রতিটি রাজনৈতিক দলেই চলছে আসন বণ্টন নিয়ে চুলছেড়া বিশ্লেষণ। কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে জয় ছিনিয়ে আনতে পারবে, কার চেয়ে কার সম্ভাবনা বেশি, জনগণের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু এসব নিয়ে বিশেষত প্রধান দুই জোটে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দুই জোটের নেতারাই বলছেন- কেন্দ্র থেকে যাকেই মনোনয়ন দেয়া হোক তারা তার পক্ষেই কাজ করবেন। এবং তারা চায়, সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থীকেই যেন মনোনয়ন দেয়া হয়।

ভোটে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোর মধ্যে এখন আসন ভাগাভাগি নিয়ে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। দলীয় কিংবা জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে চলছে নানামাত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা। যদিও আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দল দুটি যোগ্য প্রার্থীর হাতেই মনোনয়ন তুলে দিতে চাইছে। এক্ষেত্রে জোটের শরিকদের মধ্যে কেউ যদি অধিক যোগ্য হন তবে তাকে মনোনয়ন দিতেও আপত্তি থাকবে না বলে দলগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেকে অনেক আসনেই যেমন দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন, তেমনি তাদের দুই জোটের শরিক নেতারাও অনেকেই প্রার্থী হতে চাইছেন। ফলে দুই জোটের পক্ষেই আসন বণ্টনের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে।

গত ১৪ নভেম্বর গণভবনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর পর গতকাল রবিবার থেকে গুলশানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে বিএনপি। লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার গ্রহণে যুক্ত হন দলটির বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকারগ্রহণ পর্ব শুরুর পাশাপাশি তাদের জোটের শরীকদের সঙ্গে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনাও চলছে।

সূত্র জানিয়েছে, ২০ দলীয় জোটের শরিকটা ১০০টিও বেশি আসন দাবি করছে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আরও সময় নিতে চায় বিএনপি।

এ ব্যাপারে স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘আমরা প্রার্থী চূড়ান্ত করবো আরো পরে। কারণ আমাদের জোটের দলগুলো আছে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আরপিও অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহারের চূড়ান্ত দিনে হয়তো মনোনয়ন দিতে হবে। পুরো ব্যাপারটা চ্যালেঞ্জিং হলেও, খুব কঠিন হবে না।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এর আগেও জোটগতভাবে নির্বাচন করেছি। আমরা একটা বিষয়ে সবাই একমত- যে প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা বেশি তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। সেই প্রার্থী বিএনপির হোক কিংবা শরিক দলের। এক্ষেত্রে ছোট একটা দলের যদি বেশি যোগ্য প্রার্থী থাকে তারা মনোনয়ন পাবেন। বিপরীতে বড় কোনও দল থেকে সম্ভাবনা কম থাকলে প্রার্থীও কম দেয়া হবে।’

এদিকে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সদ্যগঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ২০ দলীয় জোটের আলোচনা করতে হবে। অন্যদিকে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম শরিক জোট জামায়াতে ইসলামী এবার একাদশ নির্বাচনে সরাসরি অংশ নিতে পারছে না। তবে যতদূর জানা গেছে, জামায়াত নেতারাও বিএনপির সঙ্গে থেকেই নির্বাচনে ভোটে অংশ নিতে চায়। তবে তারা তাদের দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করতে পারবে না। এক্ষেত্রে জামায়াত ধানের শীষ নাকি স্বতন্ত্র কোনও প্রতীক নেবে সেটিও দেখার বিষয়।

জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরোয়ার বলছেন, ‘আলাপ আলোচনা করে, বার্গেনিং করে আমাদের আসনের বিষয়টি নিশ্চিত হবে। আমরা ৫০টা আসনের তালিকা ঠিক করে দিয়েছি। কেন সেখানে আমাদের প্রার্থী থাকা উচিত, সেটা ব্যাখ্যা সহকারে দিয়েছি।’ তবে প্রতীক নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।

এদিকে দেখা যাচ্ছে, অনেক নির্বাচনী আসনে একই দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আবার সেখানে জোটের নেতারাও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এই দুই জোটই আসন ভাগাভাগি নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।

যদিও ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি বলছে, তারা আলাপ-আলোচনা করে বেটার প্রার্থীকেই চান। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায় বলছেন, ‘আসন ভাগাভাগির বিষয়টি আলোচনার টেবিলেই নির্ধারিত হবে। বাস্তবিক অর্থে তিনশো আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি আমাদের আছে। এখন আমাদের যদি জোটগতভাবে নির্বাচন করতে হয়, তখন কিভাবে আর কোথায় কোথায়, কোন আসনে আমাদের ভালো প্রার্থী আছে, সেটা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারিত হবে।’

সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলো সব মিলিয়ে ১৫০টির মতো আসন আশা করছে। তবে ৬০ থেকে ৭০টি আসন শরিকদের দিতে আগ্রহী আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে জোটের মধ্যে এক ধরনের টানাপোড়েন থাকলেও তা উড়িয়ে দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

গতকাল রবিবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা উইনেবল ও ইলেক্টেবল প্রার্থী চাই। যিনি উইনেবল ও ইলেক্টেবল প্রার্থী বলে বিবেচিত হবেন তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে। এক্ষেত্রে যদি আওয়ামী লীগের বাইরে ১৪ দলের অন্য কাউকে বেশি সম্ভাবনাময় মনে হয় তবে তাকেই আমরা মনোনয়ন দেবো। সেই প্রার্থী জাতীয় পার্টি কিংবা অন্য কোনও শরিক দলেরও হতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘দলের মনোনয়ন প্রায় চূড়ান্ত। আগের জরিপে দেখা গিয়েছিল, দলের অনেক সাংসদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা কমেছিল। কিন্তু সর্বশেষ মার্চ মাসের জরিপে দেখা গেছে ওই সাংসদেরা তাদের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরে পেয়েছেন। তাই খুব বেশি সাংসদ এখান থেকে বাদ পড়ছেন না। এছাড়া ১৪ দলে যারা সাংসদ আছেন এবং জোটের অন্য শরিকেরা যারা সংসদ হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন তারাও মনোনয়ন পাবেন।’

দলটির আরেক শীর্ষ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, ‘আমাদের সভানেত্রী আগেই বলেছেন, আসন বণ্টনটা সংখ্যাভিত্তিক হবে না, হবে নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে।’ তবে শরিকদের কতটি আসন দেয়া হবে এ নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x