সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার-ম্যাডাম বলার রীতি নেই : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

16
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বিএসআরএফ সংলাপে অংশ নেন। ছবি : সংগৃহীত

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের স্যার কিংবা ম্যাডাম বা এমন কিছু সম্বোধন করতে হবে, এমন কোনো রীতি নাই। সাধারণ মানুষকে তার প্রাপ্য সম্মান-মর্যাদা দিয়ে কর্মকর্তাদের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। আমরা যুগোপযোগী পদায়ন নীতিমালা তৈরি করে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি করতে চাই।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত বিএসআরএফ সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী। বিএসআরএফ সভাপতি তপন বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. শাহেনুর মিয়া। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘সরকার জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি গড়ে তুলতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। একটি দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে উঠলে দেশ সমৃদ্ধ হবে, সরকার এটা বিশ্বাস করে।’

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করেছে সরকার। অপরাধ করে কেউ ছাড় পাচ্ছেন না। অপরাধ বা আইন ভঙ্গ করলে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সরকারি চাকরিতে (বিসিএস ছাড়া) আবেদন করার বয়সসীমা যাদের শেষ হয়েছে বা শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের জন্য ২১ মাস ছাড় দিয়েছে সরকার।’

করোনা মহামারির কারণে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে না পারা সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৫ মার্চ ২০২০ নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে গত ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনপ্রশাসনে এক লাখ ৪০ হাজার ৮৬০টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নিয়োগের জন্য সাত হাজার ৯৪৮টি পদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে এক হাজার ৪৯টি, ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার ৩৪টি ও ৩৯তম বিসিএসের মাধ্যমে ছয় হাজার ৭২৭টিসহ মোট ১০ হাজার ১১০টি পদে ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

x