সিইসির ‘বদলি বা রিপ্লেস’ না হলে আইনি পদক্ষেপ: ড.কামাল

0 109

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট: প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদাকে রিপ্লেস বা বদলির দাবি জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন। তা না হলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

রবিবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি তিনি (সিইসি) বলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার নির্দেশেই কাজ করছে। তাহলে নিশ্চয়ই তার নির্দেশেই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমি জানতে চাই এমনটা তিনি কেন করছেন?’

তিনি বলেন, ‘সিইসির ওপর প্রথম থেকেই আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম না। তার পরিবর্তে একজন বিশ্বাসযোগ্য লোককে আনতে হবে। উনি বয়স্ক লোক, সিনিয়র অফিসার ছিলেন। আমি উনাকে আবারো বলছি, এখনো সময় আছে, এতদিন যা করেছেন করেছেন, এখন থেকে পরিবর্তন হন। তা নাহলে তার রিপ্লেস করা হোক। আমরা উনার রিমুভ (সরিয়ে দেয়া) চাই না। উনার রিপ্লেস (বদলি) চাই। আমরা বার বার স্মরণ করাতে থাকবো, তা নাহলে আদালতে যাওয়া হবে।’

ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষা করছি। জনগণ দেশের মালিক। ভোটে তাদের নেতা নির্বাচনের সুযোগ দেয়া উচিত। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় বর্তমান ধরপাকড়। এখনি পাইকারী হারে গ্রেফতার বন্ধ হওয়া দরকার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত ধরপাকড় না করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোন সরকারের বাহিনী না, তারা রাষ্ট্রের বাহিনী, সকলের বাহিনী।’

নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ ইভিএমের ব্যবহার বাতিল করেছে। এটা নির্ভরযোগ্য না। এটাতে বিশেষ কায়দা করলে এক জায়গায় ভোট অন্যজনের ওপর পড়তে পারে, চেকও করা যায় না। এটা দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।’

সরকারি দলের আচরণবিধি ভঙ্গ করে প্রচারণার বিষয়ে বক্তব্য রাখেন গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে পরিস্থিতি সৃষ্টির কথা ছিল, নির্বাচন কমিশন তা করতে পারেনি। গণভবন, মন্ত্রীদের বাসা ও সরকারি অফিস সরকার দলীয়রা রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছে যা নির্বাচনী আচরণবিধি ১৪/১, ১৪/২ এর লংঘন। নির্বাচন কমিশনের এতে কোনো ভূমিকা নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন হাজার হাজার লোককে গ্রেফতার করছে, মামলা দিচ্ছে। গ্রেফতারকৃতরা যাতে জামিন না পায় বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে। সরকার দলীয়রা পুলিশের প্রোটোকল নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করছে। অথচ বিরোধীরা এলাকায় গিয়ে প্রচারণা করলে, ঘরোয়া বৈঠক করলে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।’

সংবাদ স‌ম্মেল‌নে আরও উপস্থিত ছি‌লেন বঙ্গবীর কা‌দের সি‌দ্দিকী, সুলতান মুনছুর। এসময় আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, সাবেক জেনারেল (অব.) আবছা আমিন এবং একুশে টেলিভিশনের সাবেক মালিক আবদুস সালাম গণফোরামে যোগ দেন।

বিডি সংবাদ টোয়েন্টিফোর ডটকম/

Leave A Reply

Your email address will not be published.