সিনহা হত্যা: এপিবিএনের ৩ সদস্য র‌্যাব হেফাজতে

0 38

মেজর (অব.) সিনহা হত্যা মামলায় রিমান্ডপ্রাপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)। শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কক্সবাজার জেলা কারগার থেকে তাদের র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা কারগারের সুপার মোকাম্মেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর একটি দল এপিবিএনের ৩ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের হেফাজতে নিয়েছে। আদালতের আদেশেই তাদেরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব।’

এই তিন এপিবিএন সদস্য হলেন- এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ। গত ৩১ জুলাই সিনহা হত্যার রাতে এই তিনজনই এপিবিএনের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে মেজর সিনহা হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে গত ১৮ আগস্ট এপিবিএনের এই তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে র‌্যাব। ওইদিনই কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাদের প্রক্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন তামান্না ফারাহর আদালত।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাক বাহারছড়া চেকপোস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসী বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এসআই লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এ হত্যা মামলার ৯ আসামি হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক আছেন।

সিনহা হত্যার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত ৭ পুলিশ, আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আজ ৪ পুলিশসহ ৭ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হলো। বাকি ৬ আসামি এখনও র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। ওই ৬ জন হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ।

মেজর সিনহা হত্যায় পুলিশের করা মামলায় সিনহার সঙ্গে থাকা শিপ্রা দেবনাথ ও শাহেদুল ইসলাম সিফাত গ্রেফতার হওয়ার পর দুজনই জামিনে মুক্ত হন। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব।

Leave A Reply

Your email address will not be published.