সিনহা হত্যা: ৪ পুলিশসহ ৭ আসামি কারাগারে

0 35

কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান নিহতের ঘটনায় তার বোনের করা মামলায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৭ আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) র‌্যাবের পক্ষ থেকে নতুন করে রিমান্ড আবেদন না করায় কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিন সকালে আসামিদের প্রথমে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করে র‌্যাব নতুন করে রিমান্ড আবেদন না জানালে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

কারাগারে পাঠানো ৭ আসামির মধ্যে ৪ পুলিশ সদস্য- সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল মামুন এবং টেকনাফ থানায় পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষী মো. আয়াছ, মো. নুরুল আমিন ও মো. নাজিমুদ্দিন।

গত ১২ আগস্ট সিনহা হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করা ৪ পুলিশ সদস্য ও ওই ঘটনায় পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষীসহ ৭ আসামিকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ওইদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি নিয়ে কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না ফারাহ ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন।

মেজর সিনহার মৃত্যুর পর টেকনাফ থানায় পুলিশের করা দুটি মামলার ওই ৩ সাক্ষীকে গত ১১ আগস্ট গ্রেফতার করে র‌্যাব। আর অভিযুক্ত ওই ৪ পুলিশ সদস্য আগেই আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।

গত ১৪ আগস্ট সকালে আলোচিত এ হত্যা মামলায় ওই ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জনকে কারাগার থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয় র‌্যাব। ওইদিন কারাগার থেকে প্রথমে তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর ১২টার দিকে নেয়া হয় র‌্যাব কার্যালয়ে।

গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাক বাহারছড়া চেকপোস্টে নিরাপত্তা চৌকিতে তল্লাশির সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় হত্যা ও মাদক আইনে এবং রামু থানায় মাদক আইনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে।

হত্যাকাণ্ডের ৫ দিনের মাথায় ৫ আগস্ট সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসী বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে এসআই লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাসসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আলোচিত এ হত্যা মামলার ৯ আসামি হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) টুটুল ও কনস্টেবল মোহাম্মদ মোস্তফা। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক আছেন।

সিনহা হত্যার পরদিন পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি ও রামু থানায় একটি মামলা করে। মামলায় এ পর্যন্ত ৭ পুলিশ, আর্মড পুলিশের ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৩ সদস্য ও টেকনাফ পুলিশের করা মামলার ৩ সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

আজ ৪ পুলিশসহ ৭ আসামির ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হলো। বাকি ৬ আসামি এখনও র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। ওই ৬ জন হলেন- টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস, টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. লিয়াকত, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দ দুলাল রক্ষিত, এপিবিএনের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহজাহান, কনস্টেবল রাজীব ও আব্দুল্লাহ।

মেজর সিনহা হত্যায় পুলিশের করা মামলায় সিনহার সঙ্গে থাকা শিপ্রা দেবনাথ ও শাহেদুল ইসলাম সিফাত গ্রেফতার হওয়ার পর দুজনই জামিনে মুক্ত হন। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে র‌্যাব।

দেশজুড়ে তোলপাড় তোলা মেজর সিনহা হত্যা মামলাটি শুরু থেকেই তদন্তভার দেয়া হয় র‌্যাবকে। শুরুতে র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জামিলুল হক মামলাটির তদন্ত করছিলেন। এরপর জামিলুলের জায়গায় (আইও) র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়ানের সহকারী পরিচালক এএসপি খাইরুল ইসলামকে তদন্তভার দেয়া হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.