স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় যেসব খাবার

0 350

স্বাস্থ্য ডেস্ক: স্বাস্থ্যসম্মত জীবনব্যবস্থা বজায় রাখলে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকখানি কমানো যায়। এ জন্য করণীয় হলো- ধূমপান না করা, ব্লাড প্রেসার জানা এবং কন্ট্রোল করা, নিয়ম করে হাঁটা বা হালকা দৌঁড়ানো, দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা।

সতর্কভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা, কোলেস্টেরল এবং চর্বি জাতীয় খাবার না খাওয়া, নিয়মমাফিক খাবার খাওয়া, মাদক না নেওয়া, মদ্যপান না করা।

রক্তচাপ কম থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া প্রতিদিনের খাবারের তালিকা গঠনের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অর্থাৎ এমন অনেক খাবার আছে যা খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ কমিয়ে ফেলা যায়। তাই আজই এই খাবারগুলো দিয়ে সাজিয়ে ফেলুন আপনার খাবারের তালিকা এবং কমিয়ে ফেলুন স্ট্রোকের ঝুঁকি।
মাছ:

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল প্রায় ১২ বছর ধরে ৫০০০ পূর্ণ বয়স্কদের নিয়ে একটি গবেষণা করে যাদের বয়স ৬৫ বছর অথবা তার বেশি। এই গবেষণায় দেখানো হয় যে, যারা সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন মাছ খান তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ কম। যেসব মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা ৩ রয়েছে সেসব মাছ রক্তের প্রবাহ বাড়ায় এবং রক্তচাপ কমায়। আর খাদ্য তালিকায় বেশি পরিমাণে মাছ রাখা মানে লাল মাংসের জায়গা কমে যায়। যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

ওটমিল:

রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি থাকলে তা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। তাই সর্বপ্রথম আপনার উচিত হবে রক্তে কোলেস্টেরল কমানো। তার জন্য ওটমিল বেশ ভালো। ওটমিলে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার থাকে যা ক্ষুধা মেটায় কিন্তু ক্যালরি বা কার্বো কম বাড়ায়। তাই স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আপনি প্রতিদিন ওটমিল খেতে পারেন।

বাদাম:

বলা হয় প্রতিদিন এক মুষ্টি বাদাম আপনাকে কোলেস্টেরল থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। তাই কয়েক ধরনের বাদাম মিলিয়ে প্রতিদিন অন্তত এক মুঠ বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। কারণ আপনার কোলেস্টেরল যত কম থাকবে, রক্তচাপও ততটাই কম থাকবে। আর রক্তচাপ কম থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকির পরিমাণও কম থাকবে।

মিষ্টি আলু:

রাতের খাবারে অন্যান্য আইটেমের পাশাপাশি মিষ্টি আলু রাখতে পারেন। এটা অনেক বেশি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। পাশাপাশি মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এটা আপনার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাবে।

কলা:

বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম খেলে আপনার রক্তচাপ কমবে। যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়াম বেশি পরিমাণে খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২৪ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। তবে কাঁচা কলা রক্তচাপ কমাতে আরও বেশি সহায়ক বলে জানিয়েছেন দেশটির চিকিৎসক মিশেল রুথেনস্টাইন। তিনি বলেন, কাঁচা কলা স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করে। তাই হলুদ কলার পরিবর্তে বাজার থেকে সবুজ রঙয়ের কলা কিনতে হবে।

লাউয়ের বীজ:

স্ট্রোক নামের জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২২ শতাংশ কমে যায়। লাউয়ের বীজে প্রচুর পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম আছে। এ কারণে নিয়ম করে লাউয়ের বীজ খেতে হবে।

পুঁইশাক:

পুঁইশাকে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড রয়েছে। আমেরিকান মেডিকেল এসোসিয়েশনের এক গবেষণা বলছে, এটা উচ্চ রক্তচাপে থাকা ব্যক্তিদের স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এজন্য একেবারেই সহজলভ্য এই শাক নিয়মিত খান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x