অ্যাসাঞ্জকে তুলে দেয়া হচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্রের হাতে

0 240

বিকল্প ধারার সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস এর প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে না। সোমবার (৪ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি আদালতে এই রায় দিয়েছেন। অ্যাসাঞ্জের মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রে আত্মহত্যার ঝুঁকির কথা বিবেচনা নিয়ে এই রায় দিয়েছেন বিচারক। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে ২০১২ সালের জুন থেকে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ২০১৯ সালের এপ্রিলে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ওইদিনই তাকে জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন ব্রিটিশ আদালত। তখন থেকে বেলমার্শ নামক কুখ্যাত কারাগারে সাজা ভোগ করছেন অ্যাসাঞ্জ।

এরইমধ্যে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কম্পিউটার হ্যাক ও গুপ্তচর আইন লঙ্ঘনসহ ১৮টি অভিযোগ দায়ের করা হয়। মার্কিন প্রশাসন তাকে বিচারে মুখোমুখি করতে চায়। ব্রিটিশ পুলিশও অ্যাসাঞ্জকে হেফাজতে নিয়েই জনিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে কিনা সে সংক্রান্ত মামলার বিচার চলছে ব্রিটিশ আদালতে। করোনা মহামারির কারণে বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকার পর সেপ্টেম্বর থেকে আবারও শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে সোমবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন আদালত।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড জুরি অ্যাসাঞ্জকে যে ১৮টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছেন, তার মধ্যে ১৭টি অভিযোগই মার্কিন গুপ্তচরবৃত্তি আইনের আওতায় পড়েছে। সে দেশে দোষী সাব্যস্ত হলে ১৭৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতাশালীদের মুখোশ উন্মোচনকারী এই ব্যক্তির।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বিচারক অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ডিস্ট্রিক্ট জাজ ভ্যানেসা বারাইতজার রায়ে বলেছেন, মার্কিন প্রসিকিউটররা অ্যাসাঞ্জের প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন কিন্তু তার আত্মহত্যার চেষ্টা ঠেকানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

বিচারক আরও জানান, অ্যাসাঞ্জের নিজের ক্ষতিসাধন এবং আত্মহত্যার ভাবনা রয়েছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, সার্বিক অবস্থা হলো হতাশার এবং অনেক সময় বেপরোয়া মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীত থাকেন।

ব্রিটিশ বিচারক আরও বলেন, এইচএমপি বেলমার্শে প্রায় বিচ্ছিন্ন ও সুরক্ষা ফ্যাক্টর না থাকায় অ্যাসাঞ্জের জীবনের ঝুঁকি কমে গেছে। অ্যাসাঞ্জ আত্মহত্যার চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র তা ঠেকাবে না বলে বিচারে উঠে এসেছে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি মানসিক ক্ষতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ হবে নিপীড়নমূলক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x