কুমারখালী পৌর মেয়রসহ ৭ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ।

0 18

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পৌর মেয়রসহ ৭ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এমন চিত্রই উঠে এসেছে কুষ্টিয়া পুলিশের বিশেষ শাখার গোপন অনুসন্ধানে। সূত্র বলছে, হতদরিদ্র ব্যক্তি হিসাবে ত্রাণের তালিকায় নাম, অথচ তারা ত্রাণ পান নি। মাষ্টাররোলেও তারা টিপসহি বা স্বাক্ষর করেন নাই। অথচ মাষ্টাররোলে প্রত্যেকেরই টিপসহি ও স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে। এসব চাউল কে কারা কারা নিয়েছে না ভুয়া নাম দিয়ে খাদ্য সামগ্রী অাত্মস্বাত করা হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম ধরা পড়া ওয়ার্ডগুলো হলো- ১, ২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (চ:দা:) মুহামমাদ আবদুর রহমান গত ২৫ এপ্রিল কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে চিঠি দিয়েছেন।

চলমান করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কুমারখালী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ১৩৫০ জনের মাঝে বিতরনের লক্ষ্যে বরাদ্ধ প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছিল ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ৩ কেজি আলু ও ১টি সাবান। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরগণ পৌরসভার মেয়রের নিকট থেকে এসব খাদ্য সামগ্রী গ্রহণ করেন।
উক্ত ত্রাণ সামগ্রী কাউন্সিলরগণ ১লা এপ্রিল থেকে ৩ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের গরীব, অসহায় ও দুস্থ হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে বিতরণ করেন।
কিন্তু ত্রাণ বিতরণের কয়েকদিন পরই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের জেলা বিশেষ শাখার গোপন অনুসন্ধানে জানাযায়,  পৌর ১, ২, ৪, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডগুলোতে তালিকায় নাম থাকা গরীব, অসহায় ও দুস্থ হতদরিদ্র ব্যক্তিরা ত্রাণ সামগ্রী পান নাই। প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে জমা দানের জন্য মাষ্টাররোলেও টিপসহি বা স্বাক্ষর তাদের নয়। অথচ মাষ্টাররোলে তাদের প্রত্যেকের নামের পাশে টিপসহি ও স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে।
সংযুক্ত তালিকার দুস্থ ও অসহায় মানুষের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ পৌরসভার মেয়রের  যোগসাজশে অনিয়ম করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  জনৈক কাউন্সিলর জানান, আমরা কাউন্সিলররা কেউ ৯১টি কেউ ৯৮টি এবং কেউ তার চেয়েও কিছু বেশি নাম দিয়েছি। আর অবশিষ্ট নাম দিয়েছেন মেয়র নিজেই। কিন্তু আমাদেরকে (কাউন্সিলর) মাষ্টাররোলে স্বাক্ষর দিতে হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর নাগরিকদের অনেকেই বলেছেন, এ বিষয়টি অবশ্যই সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার।
পৌরসভার মেয়র মো. সামছুজ্জামান অরুণ বলেন, সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে কোন অনিয়ম হয়নি। যারা ত্রাণ পায়নি তাদের নাম ওএমএস’র তালিকায় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মাষ্টাররোল প্রস্তুতের পূর্বে তাদের নাম সংশোধন করা হয়নি, এটাই ভুল হয়েছে। আর এই বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলোচনা করেই করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীবুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি অামার নজরে এসেছে। কুমারখালী পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা। এ পৌরসভার মেয়রের পদমর্যাদা বিবেচনা করে তাঁর দপ্তরের অনিয়মের প্রতিবেদন প্রেরণ করতে আরো  উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মাধ্যমে হওয়া উচিত। সে কারনে জেলা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.