কুড়িগ্রামের রৌমারী আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

0 198

মাজহারুল ইসলাম, রৌমারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: রৌমারীর নতুন আলু চাষি কৃষকের মুখে হাসি। এবার কয়েকজন বেকার যুবক আলুর চাষ করে সাভলম্বী হয়েছে বলে জানা গেছে । আবহাওয়া ভালো, দীর্ঘমেয়াদি শৈত্যপ্রবাহ না থাকায় এবং রোগ-বালাই কম হওয়ায় আলুর বাম্পার ফলন পেয়েছে কৃষকরা। বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের চোখেমুখে হাসি ফুটলেও ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। তবে বিদেশে আলুর রপ্তানি বাড়ানোর পাশাপাশি আলুর বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে নানামুখী খাবার তৈরিতে উৎসাহ সৃষ্টি করার জন্য সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করলে কৃষক লাভবান হবে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, এই উপজেলায় আলু চাষ খবুই কম। এবার রৌমারী মাত্র ৬৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে ৩০ থেকে ৩২ টন পর্যন্ত আলু উৎপাদন করেছে নতুন আলু চাষি বাদুল। উচ্চ ফলনশীল আলু জাতের মধ্যে কারেজ, কার্ডিয়াল, স্টারিক্স, ডায়মন্ড, রুমানা, গ্রানুলা, কাবেরি আর স্থানীয় আলুর মধ্যে সাদা পাটনাই, চলিশা, শিল বিলাতি, লালপাকড়ি, বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ হয়েছে।

 

৬০ শতকের বিঘা, বিঘাপ্রতি কৃষকের খরচ হয়েছে ৩০থেকে-৩৫০ হাজার টাকা। উৎপাদনের পর এক বিঘা জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে ১৯০- ২০০ মন পর্যন্ত। ৫০০থেকে ৫৭০ টাকা মন দরে বিক্রি করেও ভাগ্যের চাক্কা ঘুরেছে কয়েকজন কৃষকের। কম দামে বিক্রির পরেও লাভের চাক্কা ঘুরেছে রৌমারীর নতুন আলু চাষি কৃষকদের।

 

৬০ শতকের বিঘা, বিঘা প্রতি আলুর উৎপাদন হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ মন পর্যন্ত। যেসব কৃষক আগাম জাতের আলু চাষ করে প্রথমদিকেই বিক্রি করতে পেরেছে তারা আরো লাভবান হয়েছে বেশি। সেসময় আলুর দাম অনেক বেশি ছিল। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে ততই আলুর দাম কমে যাচ্ছে। কারণ আলুর উৎপাদন এবার বেশি হয়েছে। এখন যারা আলু উঠিয়ে বিক্রি করছেন তারা কিন্তু বিঘা প্রতি ১ লক্ষ টাকার আলু বিক্রয় করছেন।

কয়েকদিন পরে যারা আলু বাজারে বিক্রি করবে তারা লোকসানের মধ্যে পড়বেন বলেও জানা গেছে। তবে যারা কোল্ড স্টোরে রাখার জন্য আলু চাষ করেছেন তাদের সমস্যা নেই। আর কোল্ড স্টোরে যারা আলু রাখবেন না সেসব আলু উঠবে ফাল্গুন-চৈত্র মাসের দিকে। তারা কোল্ড স্টোরে রেখে ভাদ্র-আশ্বিন মাসের দিকে বিক্রি করবেন বাজারে।

লাঠিয়াল ডাঙ্গা গ্রামের আলু চাষি, করিম, বালিয়ামারী বাজার পাড়া বাদুল, মুকুল হোসেন জানান, জীবনের প্রথম ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে, ৪ বিঘা জমিতে ৩২ টন আলু পেয়েছি। খরচা উঠেও অর্ধেকের বেশি লাভ পেয়েছি। গতকাল বাজারে ৮০ কেজির বস্তা বিক্রি হয়েছে ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা। প্রতি কেজি খুচরা বিক্রি ১০-১৫ টাকা বতর্মান বাজারে। এরপর প্রতিদিনই দর কমতে থাকলে, ভালো ফলন হয়েও খরচের টাকা উঠবে না। বরং লোকসানের সম্ভাবনা রয়েছে।

এবিষয় রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন জানান এই এলাকায় আলুর চাষ কবুই কম হয়। এরকারন জানতে চাইলে তিনি বলেন এই অঞ্চলটি নিচু এলাকা হওয়ায় তারা সরিষা আর বোরো ধানের প্রতি বেশি ভূমিকা তাদের। এইজন্যই আলু চাষ কম।

 

তিনি আরো জানায় এবার ৬০ শতকের বিঘায় প্রতি বিঘা জমিতে আলু ২০ মন উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে এই এলাকার কৃষকরা।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x