কুড়িগ্রামের রৌমারী সদর ১৫০টি বিবাহ রেজিস্ট্রি ভুয়া নকল না পেয়ে হতাশায় ভুক্তভোগীরা

0 ৪০৯

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নে চলছে ভূয়া বিবাহের রেজিস্ট্রির হিসাব নেই। নকল না পাওয়ার অভিযোগ করেছে তাসলিমা নামের এক ভুক্তভোগী অসহায় নারী। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারী) উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের গোয়ালগ্রামের আবুল হাশেমের মেয়ে তাসলিমার সাথে ঢাকা জেলার পুস্তগোলা উপজেলার সিদ্দিক মুন্সির ছেলের সাথে বিবাহ হয় গত ৫ মাস আগে। সাখওয়াত হোসেন লিপন নামের এক ব্যক্তি কাজি পরিচয় দিয়ে ওই বিবাহের রেজিস্ট্রি করান। বিবাহের কিছুদিন পর স্বাামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে বিবাহের রেজিস্ট্রির নকলের প্রয়োজন হলে সাখওয়াত হোসেনের কাছে নকল চাইতে গেলে সে গত ১ মাস থেকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানি ও টালবাহনা করছে।

 

অপর দিকে ২১ অক্টোম্বর ২০ ইং উপজেলার রতনপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নুর খাতুন এর সাথে একই ইউনিয়নের চর ফুলবাড়ি গ্রামের আবুল কালামের ছেলে গোলজার হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। একই ভাবে বিবাহের রেজিস্ট্রি চাইতে গেলে সাখওয়াত হোসেন লিপন চিলমারী উপজেলার অষ্টমির চর ইউনিয়ন কাজি মাওলানা মোঃ আঃ বারী আনসারি এর সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে ভুয়া নকল দেওয়া দিয়েছে।

 

যদিও কাজি আঃ বারি আনসারী নকলের বিষয় অস্বীকার করেছেন। ওই ভুক্তভোগী পরিবার বিবাহ রেজিস্ট্রি পেতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এছাড়াও সাখওয়াত হোসেন লিপন কাজি পরিচয় দিয়ে অত্র ইউনিয়নে প্রায় দেড় শতাধিক বাল্য বিবাহ রেজিস্ট্রি করেন। তার মাধ্যমে বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে গেলে নিবন্ধনসহ কোন কাগজই লাগে না এবং এর মধ্যে বেশি ভাগই বাল্য বিবাহ।

গত ৬ মাস আগে কাজি ও কাজি পরিচয় দেওয়া দু পক্ষেই অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর। অভিযোগের তদন্ত রহস্যজন কারনে ফাইল বন্দি রয়েছে।

এ বিষয়ে সাখওয়াত হোসেন লিপন বলেন, দু’একটা বিবাহ রেজিস্ট্রি করেেত ইউএনও স্যার উপস্থিত ছিলেন। আমি ভুয়া হলে তিনি আমাকে বাধা দিতেন। ভুক্তভোগী পরিবার ভোটার আইডি কার্ড দিলে তাদেরকে রেজিস্ট্রির নকল দেওয়া হবে।

এব্যাপারে রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু জানান, আমার ইউনিয়নে কাজি হিসেবে সাইফুল ইসলাম রয়েছে। অন্য কেউ কাজি পরিচয় দিয়ে কোথাও বিবাহ রেজিস্ট্রি করালে তা ভুয়া।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল ইমরান জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.