গোপালগঞ্জে সকালের খাবার খেয়ে ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ, হোটেল মালিক আটক

0 759

mail.google.comগোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে সকালের খাবার খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আজ সোমবার সকালে জেলা  শহরের আল জামিয়াতুল মোহম্মাদিয়া  কোর্ট মসজিদ মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম মন্টুকে আটক এবং হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে।

অসুস্থ শিক্ষার্থী মফুজুর রহমান, জাহিদ, আমিন, রমিন শেখ, দ্বীন ইসলাম, মঈরুল ইসলাম, মো: আব্দুল্লাহ, সিহাব, সাইদুর, তামিম, রাজিব, আরাফাত, সিয়াম, মিজান, সৌরভ, ইসমাইলসহ ৩২ শিক্ষার্থীকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই মাদ্রাসার জামায়াত খানার সিনিয়র শিক্ষক মো: হাফিজুল ইসলাম জানান, আজ সকালে শহরের ব্যবসায়ী আলহাজ কোমর উদ্দিন খান ওই মাদ্রাসার এতিমখানার কেরাত বিভাগের ১২৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য শহরের রোমাঞ্চ খাবর ঘর থেকে সকালের খাবার খিচুরী ও ডিম সরবরাহ করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে ওই খাবার ৬০ জন শিশুর মধ্যে পরিবেশন করা হয়।

খাবার খেয়ে পেটে ব্যাথা, খিচুনী ও বমি বমি ভাব শুরুর হলে ৩২জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পরে। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অবশিষ্ট খাবার পরিবেশন বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: শফিকুল ইসলাম ও সদর থানার ওসি সেলিম রেজা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে।

হাসপাতালে ভর্তি জিহাদ (৯), জোনায়েত (৮), মাহফুজুর রহমানসহ (৯) অন্য অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, সরবরাহকৃত ভুনা খেচুরির মধ্যে দেয়া ডিমের কুসুমগুলো তেতো ছিলো। ওই কুসুম খাওয়ার পরই আমাদের পেটে ব্যাথা, খিচুনী ও বমি বমি ভাব শুরু হয়। অনেকেই আবার বমি করে দেয়।

কোট মসজিদ মাদ্রাসার মাহতামিম হাফেজ আলহাজ হাফিজুর রহমান ঘটনার কথা স্বীকার করে বলেছেন, অসুস্থ শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এব্যাপারে কোর্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ব্যবসায়ী আলহাজ কোমর উদ্দিন খান বলেন, মাঝে মাঝে আমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের খাবার দিয়ে থাকে। আজ সকালের খাবার অর্ডার দেয়া হয় শহরের পোস্ট অফিস রোডের রোমাঞ্চ খাবার ঘরে। ওই হোটেলের মোঃ আরিফুল ইসলাম চৌধুরী (মন্টু) শিশুদের সকালের নাস্তা জন্য ১২৫ প্যাকেট ভুনা খেচুরী ও ডিম সরবরাহ করে।

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারনে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে আতংকিত হবার কারণ নেই।

গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: চৌধুরী শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমি ঘটনস্থালে গিয়ে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করেছি। ধারনা করা হচ্ছে খাবারের মাধ্যমে এ ঘটনা ঘটেছে। খাবার পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

গোপালগগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সেলিম রেজা জানান, বিষয়টি ততন্দ করে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হোটেল মালিক আরিফুল ইসলাম মন্টুকে আটক এবং হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.