ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া দরিদ্র স্বপনের ভর্তিতে অর্থ দিলেন বগুড়া জেলা প্রশাসক

0 ৪০

দীপক কুমার সরকার, বগুড়া: দরিদ্র বাবা বিশ^নাথ বর্গাজমি চাষের পাশাপাশি অন্যের জমিতে কৃষিকাজ সংসার চালিয়ে আসছে। নিজে শিক্ষিত না হলেও দুই ছেলে আপন ও স্বপনকে শিক্ষিত হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তাছাড়া ছেলেরাও হতদরিদ্র পিতা-মাতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে কাজে অনেক সময় নিজেদের জড়িয়ে দিতো। কিন্তু অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে শত অভাব-অনটন তুচ্ছ করে লেখাপড়ায় মনোনিবেশের কমতি রাখেনি ছেলেরা।

এমন ঘটনাটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সাগরপুর গ্রামে। বর্গাচাষী বিশ্বনাথ চন্দ্র সরকার এবং গৃহিণী সুমিত্রা রাণী সরকারের দুই পুত্র সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে স্বপন কুমার সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিসারিজ বিভাগে চান্স পায়। এছাড়াও বড় ছেলে আপন কুমার সরকার সিরাজগঞ্জ জেলা উল্লাপাড়ায় সরকারি আকবর আলী কলেজে অনার্স ২য়বর্ষে অধ্যায়নরত রয়েছে।

কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারের ছেলে স্বপন কুমার সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেলেও অর্থাভাবে ভর্তির সুযোগ ও লেখাপড়া অনেকটা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। খবর পেয়ে ওই মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ালেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম।

তিনি গত রবিবার (৯ জুন) বগুড়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য অনুদান হিসেবে তার হাতে ২০ হাজার টাকা এবং তাদের বাড়িঘর নির্মাণের জন্য দুই বান্ডিল টিনসহ ১২ হাজার টাকা প্রদান করেন।

গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে খবরটি শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন জিহাদী জানতে পেরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই পরিবারের খোঁজ নেন। এরই অংশ হিসেবে গতকাল তাকে এসব অনুদান দেওয়া হয়। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন জিহাদী জানান, পরিবারটি আসলেই হত দরিদ্র। ঘরের চাল পর্যন্ত নেই।

এজন্য ওর ভর্তি হওয়ার টাকা ছাড়া ঘর মেরামতের জন্য নগদ অর্থ ও টিন প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক আশ্বাস দিয়েছেন, স্বপন যদি ঠিকমত লেখাপড়া করেন তবে তার যাবতীয় খরচ বহন করা হবে। এজন্য তাকে ফলোআপে রাখার জন্য আমাদের উপর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থী স্বপন কুমার সরকার বলেন, আমি খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমাকে লেখাপড়া করানোর জন্য আমার বাবা-মা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন। আমার বাবা বর্গাচাষী। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষ করেন। এছাড়া মাটি কাটার কাজও করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার মত পরিবারের সন্তানের কাছে স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়। আর সেই স্বপ্নের জায়গাতে আমি ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে খুবই আনন্দিত। দারিদ্রতার কারণে আমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা ও জেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

স্বপন কুমার সরকার ২০২১ সালে উপজেলার ভাদড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ ও ২০২৩ সালে শেরপুর সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে জিপিএ-৪ দশমিক ৯২ পায়। চলতি বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিসারিজ বিভাগে ‘ক’ ইউনিটে চান্স পায়।

বগুড়া জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন সময় আমরা প্রশাসনিক সহায়তা প্রদান করে থাকি। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট জানতে পেরে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ প্রাপ্ত স্বপনকে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও এমন মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.