তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে রাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

0 ৬৪

রাবি প্রতিনিধি : ভয়াবহ লোডশেডিং, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিরোধী মত দমনে হামলা-মামলা-গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম।

বুধবার (৭ জুন) বেলা ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানবন্ধনে শিক্ষদের দাবি, বিরোধী মত দমনে হামলা-মামলা-গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পন্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং লোডশেডিং কমাতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বর্তমান সরকার জনগণের অধিকার হরণ করেছে উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখারুল আলম মাসুদ বলেন, আজ পৃথিবীর সামনে দেশের মানুষকে সর্বনিম্ন স্থানে আনা হয়েছে। নাইজেরিয়া, উগান্ডার মতো দেশের সাথে আমাদের দেশের নাম উচ্চারণ হচ্ছে। তা খুবই লজ্জাজনক। এই সরকার জনগণের অধিকার হরণ করেছে। আমি অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছি এবং এই সরকারের পদত্যাগ দাবি জানান তিনি। শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. কুদরত- ই -জাহান শিক্ষাখাতে সরকারের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এই অবৈধ সরকার ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে কিন্তু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে কোন বিতর্ক ছাড়া কোনো বই তুলে দিতে পারেনি৷

অন্যান্য দেশে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ প্রতিবছর বৃদ্ধি পায় আর আমাদের দেশে তা কমে। আমাদের অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গো করে দেয়া হয়েছে৷ সরকার গুজবের উপর ভর করে টিকে আছে। অবৈধ চক্রকে কেন্দ্র করে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতে চায়। ইনস্টিটিউট অব বিজনেস এডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) অধ্যাপক ড. হাছানাত আলী বলেন, আজ মানুষ কষ্টে দুশ্চিন্তায় জীবনযাপন করছে।

বিদ্যুৎতের ফেরিওয়ালাদের বাড়ি আজ পাহারা দিয়ে রাখতে হয়। সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন প্রক্সিকান্ডে গ্রেফতার হচ্ছে। দেশে এখন বিচারহীন সংস্কৃতি চালু আছে। আইনের শাসন হারিয়ে যাচ্ছে। নিজের দলের হলে ক্ষমা আর বিরুধী দলের হলেই জেল জুলুম করা হয়। আজ নির্বাচনী ব্যবস্থা ভঙ্গুর। এই সরকার জুলুমে লিপ্ত হয়েছে। তারা ভয়ে আছে। তাই নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে চায় না। জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ড. এফ নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারের সকল স্তম্ভ চুরমার হয়ে গেছে।

সরকারের ধোঁকাবাজি দেশের মানুষ বুঝে গেছে। দেশের মানুষ আর এই সরকার চায় না। এই সরকার মিথ্যাচারকে পুঁজি করে কাজ করছে। দেশকে ধ্বংস করে নাম দিচ্ছে।স্মার্ট বাংলাদেশ৷ আমরা এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি এবং দ্রুত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।

সংগঠনটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভেজ আজহারুল হক’র সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড.ফজলুল হক, বাণিজ্য অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, সাবেক সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মামুন-উর-রশিদ, অধ্যাপক ড. এম. রেজাউল করিম ও অধ্যাপক ড. সামিউল ইসলামসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষক মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.