তাইওয়ান – কুওমিনতাং বিরোধী দল দ্বারা গণভোটের ফলাফলের হেরফের নিয়ে উদ্বেগ

২২৪

আগামী ১৮ ডিসেম্বর আসন্ন গণভোটের ফলাফল নিয়ে আগেভাগেই উদ্বিগ্ন তাইওয়ানের বেশ কিছু রাজনৈতিক কর্মী। তাদের মতে তাইওয়ানের চীনপন্থী বিরোধী দল কুওমিনতাং পার্টি ভোটের ফলাফলে হেরফের করতে পারে। সংবাদ সূত্র: A24 News Agency

কুওমিনতাং পার্টি এই নির্বাচনকে তাদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে বলে মত তাদের। কিছু রাজনৈতিক কর্মী বিশ্বাস করেন যে কুওমিনতাং পার্টির প্রস্তাবিত এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দ্বারা সমর্থিত চারটি গণভোটের ইস্যুতে লুকানো রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন তাইওয়ানকে একটি ঘরোয়া এবং কূটনৈতিক সংকটে রাখার জন্য চীন কৌশলগতভাবে এ ধরনের এজেন্ডা হাতে নিয়েছে।

লাম উইং- কি নামের এক নাগরিক বলেন, ”যদি সাধারণ একটা ভোটিং পদ্ধতি অতীতে কার্যকর হয়ে থাকে তবে আমাদের সেটা পাল্টাতে হবে কেন? এটা পাল্টানোর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাইওয়ানের গনতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিবর্তন করার সুবিধা নেয়া।” এ রকম ভোটের আয়োজন নিয়ে তাই সন্দিহান জনাব ওয়াং সিং- হুয়ান।

তাইওয়ান স্টেট বিল্ডিং পার্টির এ সেক্রেটারি জেনারেলের মতে, ”চীনের কমিউনিস্ট লের দ্বারা সমর্থিত ও কুওমিনতাং পার্টির প্রস্তাবিত তাইওয়ানের চারটি গণভোট ইস্যু কোন রাজনীতিমুক্ত সামাজিক বিষয় নয়। কুওমিনতাং পার্টির প্রস্তাবিত চারটি ভেটো কৌশলগতভাবে তাইওয়ানকে ঘরোয়া এবং কূটনৈতিক সংকটে ফেলার লক্ষ্যে য়ো হয়েছে।

যেটা তাইওয়ানের ২০২২ সালের সম্ভাব্য স্থানীয় নির্বাচন ও ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ব্যর্থ করার চেষ্টা। এর ফলে স্বভাবতই তাইওয়ান চীনের উপর আরো বেশি নির্ভরশীল হবে।” এদিকে, তাইওয়ান হংকং এসোসিয়েশানের প্রসিডেন্ট সাং পু বলেছেন, ”আপনি যদি গণভোট এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একই সময়ে করেন সেটার কোন রকার নেই, কারণ গণভোট বিভিন্ন বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক করবে আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একজন ব্যক্তিকে মনোনীত করবে।

একই সময়ে একটা বিষয়ের উপর সিদ্ধান্ত নেয়া আর রাষ্ট্রপতি মনোনীত করার কোন মানে হয় না। এটার কারণ ভোটাররা যখন একজন ব্যক্তিকে মনোনীত করবে তার জানে তার এজেন্ডা কী, কারণ মনোনীতরা ইতিমধ্যে তারে রাজনৈতিক র্শন পরিষ্কার করেছে। কিন্তু কোন বিষয়ের উপর গণভোট হবে সেটা না জেনে ভোটাররা ভোট দিতে পারবে না। আমরা বরং রাষ্টপতি নির্বাচনের পর খতিয়ে খেতে পারি যে তার আদেশ কি, পরে সেটার উপর গণভোট করা যায়।”

এছাড়া তাইওয়ানের ২০২২ সালের সম্ভাব্য স্থানীয় নির্বাচন ও ২০২৪ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ভন্ডুল করতে এটি একটি অপকৌশল। এর মাধ্যমে তাইওয়ান চীনের উপর আরো বেশি নির্ভরশীল হবে, দেশটির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে নষ্ট হবে এবং তাইওয়ান- মার্কিন জোট ধ্বংস হবে।

Comments are closed.