তানোরে গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের অর্ধ কোটি টাকা পোস্টমাস্টারের পকেটে 

0 ৭০
তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোরে গ্রাহকের সঞ্চয়পত্রের অর্ধ কোটি টাকা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে। গত সপ্তাহে বিষয়টি নজরে আসে ডাক বিভাগের। এরপরই বিষয়টি গ্রাহকদের নজরে আনেন তারা। ৩০ জন গ্রাহকের অর্ধ কোটি টাকার উপরে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছে ডাক কর্তৃপক্ষ। রাজশাহীর ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল (তদন্ত) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পোস্ট মাস্টার মুখছেদ আলী কৌশলে গ্রাহকদের সাক্ষর করিয়ে নিজে টাকা তুলে নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, রাজশাহীর তানোর পৌর শহরের কুঠিপাড়াস্থ উপজেলা কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার মুখছেদ আলীর বিরুদ্ধে বহু গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা সঞ্চয় পত্র তুলে নেওয়ার অভিযোগ পায়। আমরা তদন্ত কমিটি সেটির প্রমান পাই। এরপর মাইকিং করা হয় গ্রামে গ্রামে। এটি জানার পর মানুষ তাদের কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসছে। এসব কাগজপত্রের পেমেন্টে অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে। বাস্তবে গ্রাহক কোন টাকা পায় নি। আমরা এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জনের গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা বিষয়ে জানতে পেরেছি।
তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় পোস্ট মাস্টার মুখছেদ আলীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তবে তাকে এখানে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় তিনি আজ অফিসে আসেন নি। আমরা থানায় একটি জিডি করেছি। যেহেতু তিনি সরকারি কর্মচারি তার বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করা যায় না। তাই এটি দুদকে অভিযোগ হবে। সেখানেই তার মামলা দায়ের করা হবে।
তানোরের কুঠিপাড়া গ্রামের আব্দুর রাকিব বলেন, আমি সবশেষ যখন টাকা জমা দেই তখন আমার জমার বইয়ের একটি জায়গায় সই করতে বলেন, মুখছেদ আলী। আমি তার দেখানো জায়গায় সই করে বাড়ি চলে যাই। পরে গত মাসে আমি টাকা তোলার জন্য গিয়ে জানতে পারি যে আমার হিসাবে টাকা নাই।
এবিষয়ে পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় উত্তরাঞ্চল রাজশাহীর পোস্টমাস্টার জেনারেল কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, আমি দিনাজপুর থেকে ফিরছি। আমি শুনেছি এক পোস্ট মাস্টার গ্রাহকের টাকা তুলে নিয়েছেন। আমরা তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছি। এই ঘটনায় দুদকে মামলাও দেওয়া হয়েছে।
তানোরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এই ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। তারপরও আমরা বিষয়টি দেখছি।
এবিষয়ে দুদক রাজশাহী জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, আমাদের মৌখিক ভাবে ডাক বিভাগ থেকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। তবে অভিযোগের কপি এখনও পৌঁছায় নি। অভিযোগ পেলে সেটি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত পোস্ট মাস্টার মুখছেদ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেন নি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.