দুর্গাপুরে ১০ টাকা কেজির চাল নিয়ে চেয়ারম্যানের চালবাজি

581

duroapurদুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি : রাজশাহীর দুর্গাপুরের পানানগর ইউনিয়নে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায়  ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রির তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরী করতে ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী খাঁন এলাকার হতদরিদ্রদের সাথে চালবাজি করেছেন বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া যে তালিকা করা হয়েছে বা যাদের নামে কার্ড ইস্যূ করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ ব্যাক্তিই চেয়ারম্যান আজাহারের আতœীয়-স্বজন। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইটের তৈরী ফ্লাট বাড়ির মালিক ও কমপক্ষে ২০ বিঘা আবাদী জমির মালিক। এ তালিকার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পানানগর এলাকার সরকার দলীয় লোকজন ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করতে ও চেয়ারম্যান আজাহার আলী খাঁনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে পানানগর এলাকার কয়েকজন বঞ্চিত হতদরিদ্র ও সাধারণ মানুষ।
লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে পানানগর এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারের নেয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় দুর্গাপুরের পানানগর ইউপিতে মোট ৯১৯ জন হতদরিদ্রের তালিকা তৈরি করা হয়। ইতিমধ্যে প্রথম দফায় ৪৫৪ জন ১০ টাকা কেজি দরে চাল উত্তোলন করেছে। এই তালিকায় থাকা হতদরিদ্রদের নামের পাশেই রয়েছে পানানগর গ্রামের আবুল হোসেন শেখের নাম। কার্ড নম্বর ৪৬২। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তার ইটের তৈরী একটি ফ্লাট বাড়ি রয়েছে। তালিকায় নাম থাকা একই গ্রামের আলিমুদ্দিনেরও রয়েছে বিলাশ বহুল ফ্লাট বাড়ি। কার্ড নম্বর ৩০২। এছাড়া তালিকায় নাম থাকা একই গ্রামের শামসুল ইসলামের (৩৯২) রয়েছে প্রায় ৩০ আবাদী জমি। চেয়ারম্যান আজাহার আলী খাঁনের আপন ছোট ভাই মৎস্য ব্যবসায়ী মোজাম্মেল খাঁনের (৪২৮) রয়েছে পাকা বাড়ি ও প্রায় ২০ বিঘা আবাদী জমি। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় তার নিজের লীজ নেয়া পুকুর রয়েছে প্রায় ৮-১০টি। একই গ্রামের আফছার আলী খাঁন পানানগর দ্বিমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। তার ছেলে আনারুল ইসলামও (৪১৩) রয়েছে হতদরিদ্রের ওই তালিকায়। চেয়ারম্যান আজাহারের ভাতিজা কাওসার আলী, মামাতো ভাই সাইদুল ইসলাম ও বাবুল হোসেন, খালাতো ভাই শাহজাহান আলী ও নজরুল ইসলা নজু এবং ফুফাতো ভাই মুকিদ সরদারের নামও রয়েছে ওই তালিকায়। এছাড়া ডাঙ্গিরপাড়া গ্রামের জয়েন উদ্দিনের  রয়েছে ছাদ ঢালাই সহ পাকা বাড়ি। এছাড়া ওই তালিকায় নাম রয়েছে মাবুল হোসেন ও তার স্ত্রী মর্জিনা বেগমের। মাবুল হোসেনের ভাই রহমানের নামও রয়েছে ওই তালিকায়। এভাবেই একই পরিবারের একাধিক ব্যাক্তি ও নিজের আতœীয়-স্বজনের নামে নিয়ম বহির্ভুত ভাবে কার্ড ইস্যূ করেছেন চেয়াম্যান আজাহার আলী খাঁন।
চেয়ারম্যান আজাহার আলী খাঁনের এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে ও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পানানগর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পক্ষে ওই এলাকার তমির উদ্দিনের পুত্র খলিল উদ্দিন এ অভিযোগ করেন।
খলিল উদ্দিন অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যান আজাহার আলী খাঁন এক সময় উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া উপজেলা যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি। তার এক ভাই সেলিম রেজা খাঁন বর্তমানে পানানগর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। খলিল উদ্দিনের অভিযোগ, সরকারের অর্জন ম্লান করতেই পরিকল্পিত ভাবে চেয়ারম্যান আজাহার আলী খাঁন ১০ টাকা কেজির চাল বিক্রির কার্ড ইস্যূ করতে এ ধরনের অনিয়ম ও স্বজন প্রাতি করেছেন।
পানানগর ইউপি চেয়ারম্যান আজাহার আলী খাঁনের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, তার এক ভাই চাল কিনে ভাত খায়, এজন্য তাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আতœীয় করন ও স্বজন প্রীতি করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ফেয়ার প্রাইস কার্ডের তালিকা ব্যাপক যাচাই-বাছাই করে তৈরি করা  হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা আক্তারুন্নাহার জানান, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রমানিত হলে চেয়ারম্যান আজাহার আলীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের ও উদ্যোগ কোন ভাবেই ম্লান হতে দেয়া যাবেনা বলেও তিনি জানান।

x