দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজে জঙ্গী বিরোধী সমাবেশ শেষে শিক্ষকদের ওপর হামলা : অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষক লাঞ্ছিত

0 3,818

mail.google.com

এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, কুষ্টিয়া :  কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজে জঙ্গী বিরোধী সমাবেশ শেষে শিক্ষকদের ওপর হামলা চালিয়েছে জঙ্গী মনোভাবাপন্ন কলেজের প্রদর্শক জহুরুল আলমের নেতৃত্বে কতিপয় শিক্ষক। এ সময় হামলাকারীরা অধ্যক্ষসহ ৩ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে। সোমবার দুপুর সোয়া ১২ টার দিকে দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে জঙ্গী হামলার এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী ঘটনার দিন বেলা ১১টায় দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজে জঙ্গী বিরোধী মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ গেটে মানববন্ধন শেষে ৫ শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষর্থী জঙ্গী বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশ করে। সমাবেশে কলেজের অধ্যক্ষ আমানুল হক, বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অমরেন্দ্র নাথ, সরকার আমিরুল ইসলাম ও ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে কর্মসূচীতে অংশ নেওয়া কলেজের সকল শিক্ষক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় জঙ্গী বিরোধী মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশে অংশ না নেওয়া জঙ্গী মতাদর্শে বিশ্বাসী কলেজের প্রদর্শক জহুরুল আলমের নেতৃত্বে কতিপয় শিক্ষক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে অধ্যক্ষের ওপর চড়াও হয় ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন জঙ্গী বিরোধী সমাবেশ করা হলো তা জানতে চায়। কলেজের অধ্যক্ষ উপজেলা পরিষদ চত্বরে জঙ্গী বিরোধী সমাবেশের ব্যাখ্যা দিতে গেলে জহুরুল আলম অধ্যক্ষের ওপর চড়াও হয় এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে। জহুরুল আলমের গালমন্দের প্রতিবাদ করায় কলেজের সহকারী অধ্যাপক সরকার আমিরুল ইসলাম ও প্রভাষক শরিফুল ইসলামকেও গালমন্দসহ তাদের লাঞ্ছিত করা হয়। অধ্যক্ষসহ কলেজের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় কলেজের সকল শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। বিষয়টি দৌলতপুর থানা পুলিশকে জানানো হলে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলকারী জঙ্গী মতাদর্শে বিশ্বাসী জহুরুল আলম গা ঢাকা দেয়। এ বিষয়ে দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজর অধ্যক্ষ আমানুল হক জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী জঙ্গী বিরোধী মানববন্ধন, মিছিল ও সমাবেশ শেষে নিজ কার্যালয়ে আসলে কলেজের ভূগোল বিষয়ের প্রদর্শক জহুরুল আলম তার কার্যালয়ে উত্তেজিত অবস্থায় হাজির হয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে কেন জঙ্গী বিরোধী সমাবেশ করা হলো তা জানতে চায়। এসময় সে আমাকে সহ কর্মসূচীর সমন্বয়কারী সরকার আমিরুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামকে গালমন্দ করে এবং আমাকে কলেজ থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে ঘোষনা দেয়। সেই সাথে জহুরুল আলম শিক্ষকদের লাঞ্ছিকত করে। জঙ্গী বিরোধী সমাবেশ শেষে শিক্ষকদের ওপর হামলার বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম শাহীন জানান, দৌলতপুর কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনার খবর পেয়ে তৎক্ষনাত সেখানে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। সেই সাথে জঙ্গী বিরোধী সমাবেশে হামলা ও শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।#

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x