নাটোর  হাসপাতাল থেকে চুরি করা নবজাতক উদ্ধার মুল অভিযুক্তসহ গ্রেফতার দুই

0 ৭৭

নাটোর প্রতিনিধি: মাত্র ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে নার্স সেজে চুরি করা নবজাতক শিশু কন্যাকে ২০ ব্যাবধানে কুষ্টিয়ার খাজানগর থেকে উদ্ধার করেছে নাটোর পুলিশ। চুরির ঘটনার মুল অভিযুক্ত মোছাঃ কাজলী সহ দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেপতারকৃতরা হলেন নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ছদ্মবেশী নার্স মোছাঃ কাজলী ও কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার সাইফুল ইসলামের স্ত্রী শিশুটির ক্রেতা মোছাঃ কাজলী খাতুন। শনিবার সকাল ৮ টার দিকে কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার একটি বাড়ী থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে শিশুটির মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য দেন পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান।

শিশুটিকে ফিরে পেয়ে শিশুটির মা মোছাঃ হাসনে হেনা অসুস্থ অবস্থাতেও তার প্রতিক্রিয়াতে আনন্দ প্রকাশ করেন। শিশুটির বাবা মাহফুজুর রহমানও আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে উদ্ধার কাজের সাথে জড়িত সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন শিশুটিকে হারিয়ে তারা যে কি কষ্টে ছিলেন তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবেন না। এখন তারা খুশি। তারা ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

শিশুটিকে ফিরে পেয়ে শিশুটির দাদী খায়রুন্নাহার সহ পরিবারের সবাই বলেণ শিশুটিকে হারিয়ে তাদের চোখের ঘুম ও ক্ষুধা চলে গিয়েছিল। তাদের সদ্য ভুমিষ্ট শিশু কন্যাকে হারিয়ে তারা সবাই পাগলপ্রায় হয়ে গিয়েছিলেন। বাচ্চাটিকে ফিরে পেয়ে তারা খুশি। শিশুটির বড় আব্বা আবুল কালাম আজাদ জানান, সদর হাসপাতাল থেকে শিশুটি হারিয়ে গেল। তিনি মনে করেন এ ব্যাপারে সদর হাসপাতাল কতৃপক্ষের আরো বেশী সচেতন হয়ে তদারকী করা প্রয়োজন। একই সাথে তদন্ত করে বের করা প্রয়োজন নার্সের পোশাক পড়ে নার্সদের সাথে ঘোরাঘুরি করার সময় কর্তব্যরত নার্সদের ওই মহিলাকে চেনার কথা। কিন্তু কেন তারা চিনতে পারলো না। এর সাথে হাসপাতালের কর্মরতদের কেউ জড়িত কিনা তাও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সাথে ঘটনার সাথে জড়িতদের তারা দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান।

এ ব্যাপারে ছদ্মবেশী নার্স মোছাঃ কাজলী জানান, এক মেয়ে তার কাছে শিশুটিকে চেয়েছিল। সে শিশুটিকে কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার নিঃসন্তান মোছাঃ কাজলী খাতুনের কাছে ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। সে নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুটির দাদীর কোল থেকে শিশুটিকে নিয়ে ট্রেনে করে গিয়ে শিশুটিকে দিয়ে আবার রাত ১০ টার দিকে নাটোরে ফিরে আসে।
শিশুটির ক্রেতা মোছাঃ কাজলী খাতুন জানান, জানান, তার দীর্ঘদিন ধরে তার কোন সন্তান না হওয়ায় মোছাঃ কাজলের সাথে বাচ্চাটি এনে দেওয়ার কথা হয়। কাজলী তার কছে ২০ হাজার টাকা দাবী করলেও পরে ৮ হাজার টাকয় ঠিক হয়। তার কাছে টাকা না থাকায় ৫ হাজার টাকা নগদ দেন এবং বিকাশের মাধ্যমে বাঁকি টাকা দেওয়া হবে বলে জানান।

পুলিশ সুপার সাইফুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে নাটোর সদর হাসপাতালে নবজাতক শিশু কন্যাকে কোলে নিয়ে বসে ছিল শিশুটির দাদী। এ সময় নার্সের পোশাক পড়া এক নারী শিশুটিকে চেকআপ করার কথা বলে কোলে করে নিয়ে চলে যায়। অনেক সময় ফিরে না এলে তারা শিশুটির খোঁজাখুজি শুরু করে।

পরে জানতে পারে শিশুটি চুরি হয়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল কতৃপক্ষকে জানালে তারা বিষয়টি পুলিশকে জানায়। এ ব্যাপারে শুক্রবার রাত ৯-২০ টার সময় চুরি যাওয়া শিশুটির বাবা মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাত এক নারীকে অভিযুক্ত করে নাটোর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় নাটোরের বাস স্ট্যান্ড, রেল স্টেসনসহ প্রয়োজনীয় সকল স্থানে পুলিশ অনুসন্ধান চালায় পুলিশ। পরে নাটোর রেল স্টেসনের সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করে জানতে পারেন একজন মহিলা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ট্রেনে চেপে গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে নাটোর শহরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার আরিফুল ইসলামের স্ত্রী ছদ্মবেশী নার্স মোছাঃ কাজলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে নাটোর সদর থানা পুলিশ কুষ্টিয়ার খাজানিগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ কাজলী খাতুনকে গ্রেফতার ও তার হেফাজতে থাকা চুরি যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং গ্রেফতাকৃত দুই জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.