ফ্লাইটে চড়তে এবার মাপাতে হবে ওজন

0 ৯০
ফিনএয়ারের একটি বিমান। ফাইল ছবি ফ্লিকার ডট কম থেকে নেওয়া

এতদিন বিমানযাত্রীর লাগেজের ওজন মাপা হতো। আর এখন লাগেজের পাশাপাশি যাত্রীদের ওজনও মাপা হবে। ফিনল্যান্ডের একটি এয়ারলাইন্স এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ফিনএয়ার থেকে বলা হয়েছে, ফ্লাইটকে আরও নিরাপদ করার জন্য নেওয়া উদ্যোগ যাত্রীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। বিট্রিশ গণমাধ্যম ইউনিল্যাডের এক প্রতিবেদনে এমন সব তথ্য তুলে ধরেছেন ক্যালাস জোন্স।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, অনেকেরই বিমানবন্দরে যেতে গিয়ে যতেষ্ঠ চাপের অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেখানে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যেতে যেতে পকেটে পাসপোর্টটি আছে কি না, তা বারবার দেখেন। এরইমধ্যে ফিনএয়ার এমন একটি সিদ্ধান্ত নিল। যদিও এর আগে কোরিয়ার একটি এয়ারলাইনস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি বলছে, ফিনল্যান্ডের রাজধানী হেলসিংকি থেকে ফিনএয়ারের ফ্লাইটে চড়তে গেলে আগে মাপাতে হবে নিজের ওজন। ফিনিশ ক্যারিয়ার জানিয়েছে, তারা গত সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হেলসিংকি থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীদের ওজন পরিমাপ শুরু করেছে। ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার আগে বিমানের মোট ওজনকে ভালোভাবে জেনে নিতে এই ব্যবস্থা রেখেছে তারা।

ফিনএয়ারের মুখপাত্র কাইসা টিককানেন বলেছেন, ‘এই সপ্তাহে সোমবার হেলসিংকি বিমানবন্দরে পরিমাপ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি গ্রাহক ওজন পরিমাপে অংশ নিয়েছেন।’

এই প্রক্রিয়া বিমানযাত্রাকে আরও নিরাপদ করবে বলে আশা করছে এয়ারলাইনসটি। কারণ, ফ্লাইটের জ্বালানির ওজন, ব্যাগেজ ও কার্গো, ক্যাটারিং, পানির ট্যাঙ্ক ও গ্রাহকদের ওজন নিরূপণ শেষে এখন এই এয়ারলাইনসের বিমানযাত্রার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে না।

ফিনএয়ার বলছে, যাত্রীদের ওজন মাপার ক্ষেত্রে তারা তাদের ক্যাটাগরি, লিঙ্গ ও বয়সকে প্রাধান্য দিচ্ছে। একইসঙ্গে তারা সংগৃহীত তথ্য অন্য কোথাও ব্যবহার হবে না বলে নিশ্চিত করেছে।

এয়ারলাইনসের স্থলপ্রক্রিয়া বিভাগের প্রধান সেতু মুনাক্কা বলেন, ‘গ্রাহক পরিষেবায় যারা ওজন পরিমাপে কাজ করবেন, তারাই শুধু এই তথ্য দেখতে পারবেন। গ্রহকরা নিশ্চিন্তমনে ওজন পরিমাপে অংশ নিতে পারেন।’

প্রতিষ্ঠানটির যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক পাইভিট তালকভিজ দ্য হাফিংটন পোস্টকে বলেছেন, ফিনল্যান্ডে শীতকালে গড় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে চলে যায়। এ সময় দেশটির নাগরিকরা কোর্টের নিচে কয়েক স্তরে জামাকাপড় পড়েন। ফলে বেশি ওজন হয়ে যায়। আর এ বিষয়ে তাদেরকে দোষারোপ করা যায় না।

যাত্রীদের ওজন মাপার পদক্ষেপ বিষয়ে পাইভিট তালকভিজ বলেন, ফ্লাইটের ‘নিরাপত্তার বিষয়টি জোরদারে আমাদের প্রতিষ্ঠান এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমরা ওজনের যে তথ্য ব্যবহার করছি তা নির্ভুল কি না, তা জানতে চাই। আমরা প্রতিটি ফ্লাইটের জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেছি। বিমানের কার্যক্ষমতার জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ৷ এগুলো যাত্রীদের ব্যাখ্যা করলে তারা তা বুঝতে পারেন বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.