বগুড়ায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও পুরষ্কার বিতরণ

0 ৮৮

বগুড়া প্রতিনিধি: “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ”-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন কমিটি বগুড়ার উদ্যোগে ২৫ জুলাই মঙ্গবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এরপর দিকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে অতিথিবৃন্দ বেলুন উড়িয়ে সড়ক র‌্যালীর শুভ উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বগুড়া-৬ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু।

এসময় পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী, বিপিএম (বার) পিপিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, আলহাজ্ব মুজিবর রহমান মজনু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) মোহাম্মদ আল মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেলেনা আক্তার, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ মোঃ মকবুল হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সরকার আনোয়ারুল কবীর আহম্মেদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মাসুদ রানা সহ জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাগণ, মৎস্য চাষী ও মৎস্য ব্যবসায়ী,খামারী, গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শেষে মৎস্য সেক্টরে সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্যের অগ্রযাত্রা একটি ভিডিও প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

একইভাবে “নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ”-এ প্রতিপাদ্য নিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন কমিটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার উদ্যোগে দিনে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যালী ও আলোচনাসভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে।

শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহজামাল সিরাজি। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের শেরপুর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, সাংবাদিক সাইফুল বারি ডাবলু, কৃষক লীগের বগুড়া জেলার সহ-সভাপতি এসএম আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওবায়দুর রহমান, মির্জাপুর ইউপি চেয়াররম্যান আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য জীবী লীগ নেতা মিঠুন হাসান মিঠু, মৎস্যজীবি সমিতি পক্ষে রতন সরকার, মংলা হালদার প্রমূখ। এরপরে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষ্যে শেরপুর উপজেলার সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন এলাকার মৎস্যজীবি, চাষী, মৎস্য খাদ্য উৎপাদক ও পরিবেশক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী চাহিদার চেয়েও বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে। এসব ব্যক্তি উদ্যোগে পুকুরে চাষ করে উৎপাদিত মাছ স্থানীয় অর্থনীতিতে জোড়াল ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অন্যদিকে মুক্ত জলাশয়ে নদী, নালা, খাল ও বিলে মাছের প্রজনন ও বিস্তার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে তারা খাল ও বিল সংস্কারের উদ্যোগহীনতা ও দখল হয়ে যাওয়াকে দায়ি করেছেন। এছাড়াও শেরপুরের উপর দিয়ে বয়ে গেছে করতোয়া ও বাঙালী নদী। এই নদীগুলোও এখন মৃতপ্রায়। এছাড়া স্থানীয় এস আর কেমিক্যাল ইন্ডস্ট্রিজ ও মজুমদার প্রডাক্টস লিমিটেড নামক দুইটি শিল্প কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য নদী দুটিতে ফেলা হয়। এর ফলে নদীগুলোতে কোন মাছ নেই, নেই কোন জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণি। এমনকি পানিও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় মিটিংয়ে বারবার কথা বলা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে নদীর উপকূলে বসবাসরত মৎস্যজীবিরা কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

এ দিকে উপজেলার জলাভূমিগুলো ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের কথা উল্লেখ করেছন বক্তারা। তারা বলেন, সরকারি পুকুর গুলো প্রকৃত মৎস্যজীবিদের কাছে ইজারা দেওয়ার কথা। কিন্তু সরকারি দপ্তরের অবহেলার কারণে বেশির ভাগ মৎস্যজীবি সমিতিগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীদের নামে নিবন্ধন করা হয়েছে। কোথাও বা প্রকৃত মৎস্যজীবিদের সমিতি পুকুর ইজারা পেলেও তা অন্যের কাছে বিক্রি করে দেয়। এটা আইন বহিঃর্ভুত। এজন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের সরকারি প্রচেষ্টা ব্যহৃত হচ্ছে। তারা এসব অনিয়ম দূর করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহবান জানান।

এর আগে একটি র‌্যালী উপজেলা চত্বর প্রদক্ষিণ করে এবং ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এর পুকুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডঃ গোলাম ফারুক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা সুলতানা সহ অতিথিবৃন্দ মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

সভায় উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াবালা গ্রামের রতন সরকারকে এবছরের উপজেলার শ্রেষ্ঠ মৎস্য চাষী ঘোষণা করে তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.