বগুড়ায় শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আবারও হবে ক্রিকেট খেলা

0 ৯৮

দীপক সরকার, বগুড়া প্রতিনিধি: অবশেষে বিসিবির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করায় ভেন্যু ফিরে পেলো বগুড়ার শহিদ চান্দু স্টেডিয়াম। আর এ ঘোষণায় স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা হতে আর বাধা থাকলোনা। সেই সাথে স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা চালু রাখতে নিজস্ব অর্থায়নে পৃথক একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে বলে ঘোষণা দেয় বিসিবি। আর এ ঘোষণার কথা জানতে পেরেই আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে ক্রীড়াপ্রেমী বগুড়াবাসী।

শনিবার (৮এপ্রিল) ঢাকার মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার এক বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ মিটিং হয়। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ তথ্য জানান। বৈঠকে বিসিবি ছাড়াও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন বিকালে ভেন্যু ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম। তিনি এ জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বিসিবির সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম বিসিবির ভেন্যু হিসেবে বহাল থাকলো। আনুষ্ঠানিকভাবে ভেন্যু হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন থেকে এখানে জাতীয় লীগ ও বিসিবির খেলাগুলো সমন্বয় করে হবে। আমরা আগের থেকে আরও ভালো খেলা উপভোগ করতে পারবো।

বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু জানান, বগুড়া শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে ক্রিকেট ভেন্যু বহাল রাখা সংক্রান্ত বিসিবির প্রদেয় একটি চিঠি বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও বিসিবি’র অর্থায়নে ‘বগুড়ায় স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেট খেলা চালু রাখতে পৃথক একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হবে’ বলে বিসিবির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।

স্টেডিয়াম সূত্র জানায়, স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া ফুটবলার চাঁন্দু’র নামেই স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে ‘শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়াম’ হিসেবে নামকরন করা হয়। স্টেডিয়ামটিতেই ফুটবল, ক্রিকেট এ্যাথলেটিকসসহ নানা খেলাধূলা চলছিল। বিগত ২০০৩-০৪ অর্থবছরে ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে উন্নীত করে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মালিকানাধীন ওই স্টেডিয়ামটিকে প্রথমে ক্রিকেট ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড(বিসিবি)।

এরপর ভেনুটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১৭ জন স্টাফ নিয়োগ দেয়। স্টেডিয়ামের চার টাওয়ারে ১০০টি করে মোট ৪০০ ফ্লাড লাইট বসানো হয়। এ লাইটগুলো আট লাখ ওয়াট বিদ্যুতের আলো দেয়। ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ভেন্যু ঘোষণা দেয়। একই বছর স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক টেস্ট ভেন্যুর স্বীকৃতি লাভ করে।

পরে ওই স্টেডিয়ামেই ২০০৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল শ্রীলংকাকে চার উইকেটে পরাজিত করে। তবে ২০০৬ সালের ডিসেম্বরের পর ওই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক আর কোনো ম্যাচ অনুষ্ঠিত এবং ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারির পরে ফ্লাডলাইটগুলো আর জ্বালানো হয়নি। বর্তমানে স্টেডিয়ামে উন্নতমানের পাঁচটি পিচ রয়েছে। এর পরিবর্তে ওই স্টেডিয়ামে জাতীয় লীগের খেলাগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এর পাশাপাশি জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে সেখানে স্থানীয় পর্যায়ের খেলা চলতে থাকে।

তবে স্থানীয় পর্যায়ের ক্রিকেট খেলার কারণে জাতীয় লীগের খেলা পরিচালনার সুযোগ না পাওয়ায় এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার অসহযোগীতায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিসিবি আকস্মিকভাবে গত ২ মার্চ বগুড়া শহীদ চান্দু ক্রিকেট ভেন্যু বাতিলের ঘোষণা দেয়। একই সঙ্গে ওই ভেন্যু থেকে ম্যানেজারসহ ১৭ স্টাফকে অন্যত্র বদলী করে সরঞ্জামগুলোও সরিয়ে নেয়। এতে বগুড়ার ক্রিকেটপ্রেমীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

ভেন্যু বাতিলের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবিতে সচেতন নগারিক এবং খেলোয়ড়াররা আন্দোলনে নামেন। একই শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামকে ক্রিকেট ভেন্যু বহাল রাখার দাবিতে অনশন শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা পুত্র হুমায়ুন আহমেদ রুমেল। সে হাতে-গলায় শিকল বেঁধে কাফনের কাপড় পড়ে দুই দফা অনশনে বসেন। পরে ১৯ মার্চ শহিদ চান্দু স্টেডিয়ামের ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারসহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনশন ভাঙিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাছুদার রহমান মিলন জানান, বগুড়ায় একটি মাত্র ক্রিকেট ভেন্যু রয়েছে। যার কারণে একই সঙ্গে জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ের খেলা চালাতে সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক দেরিতে হলেও বিবিসি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন। আর সে কারণেই ভেন্যু বাতিল ঘোষণা প্রত্যাহার পূর্বব পৃথক একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিসিবি।

তবে ‘নতুন একটি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ২১ বিঘা জমি প্রয়োজন। তাছাড়া আলাদা ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মিত হলে আমরা অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা বগুড়া থেকে শফিউল ইসলাম সুহাস, তাওহিদ হৃদয়, তানজিদ হাসান তামিম, খাদিজাতুল কুবরা, ঋতু মনি এবং শারমিন আক্তারের মত আরও ক্রিকেটার তৈরি করতে পারব।’ বলে তিনি আরো জানান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.