বগুড়ার শেরপুরে শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফল বাতিলের দাবীতে পরিচালনা কমিটির সদস্যদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করলো শ্রমিকরা ॥ সংগঠন কার্যালয় সীলগালা

0 413

pic-sherpur-bogra-sromic-24-nov-2016বগুড়া প্রতিনিধি:নির্বাচনে কারচুপি ও ফলাফল ঘোষনায় স্বজনপ্রীতিসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নিতির অভিযোগ এনে বগুড়ার শেরপুরে গত বুধবার রাতে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে সংগঠনের কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সাড়ে ৩ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে সৃষ্ট ঘটনার স্ষ্ঠু সমাধানের প্রতিশ্রুতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনসহ গন্যমান্যরা ওই সংগঠন কার্যালয় তালাবদ্ধ করে সিলগালা করে দেয়। এ ঘটনায় পূর্বের ঘোষিত ফলাফল বাতিলসহ পুনঃ নির্বাচনের দাবীতে লিখিত আবেদন করেন পরাজিত ও বিক্ষুদ্ধ শ্রমিক নেতাসহ কর্র্মীরা।
সরেজমিনে জানা যায়, বগুড়া জেলা বাস-মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন গত ১৮ নভেন্বর শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বিরতিহীনভাবে শেরপুর শহরের ধুনট রোড আলীয়া মাদরাসা ভোট কেন্দ্রের ৩১টি বুথে ৬ হাজার ২৩৯ জন ভোটারের ভোট গ্রহণ করেন এবং ফলাফল ঘোষণা হয়। এতে সভাপতি ,কার্যকরী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদসহ ২৭টি পদের জন্য মোট ৬১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচন কমিটির অদক্ষতা ও খামখেয়ালীপনায় ছাপানো ব্যালটে ১টি পদের প্রতিক না ছাপানো হওয়ায় পরবর্তীতে ওই পদে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। বাঁকী পদগুলোর মধ্যে বিজিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে ক্যাশিয়ার পদে আবু হানিফকে নির্বাচনে বিজিত ঘোষনা দেয়ায় প্রতিপক্ষ অপরপ্রার্থী নাজমুল হক লুলু ভোটের পুনঃগননার আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা গত (২৩ নভেম্বর) বিকাল থেকে শেরপুর শহরের স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে ওই পদে ভোট পুনঃ গননা করে পরাজিত প্রার্থী লুলুকে বিজয়ী ঘোষনা করেন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই সকল পরাজিত প্রার্থী ও সর্মথিত শ্রমিকরা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির অদক্ষ ও অযোগ্যতা, ভোট কারচুপিসহ নানা অনিয়ম দুনীতির অভিযোগ এনে সংগঠন কার্যালয়ের সামনে সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল বাতিল পুর্বক পুনঃ নির্বাচনের দাবীতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং মারমুখী অবস্থানে যায়। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকেরা নির্বাচনা কমিটির সদস্যদের সংগঠন কার্যালয়ে প্রায় রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত সাড়ে ৩ ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান ও থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ এরফানসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে সংগঠনের কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ, এ্যাড. গোলাম ফারুক, সাংবাদিক সাইফুল বারী ডাবলু, নিমাই ঘোষ, শফিকুল ইসলাম শফিক, রফিকুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ পিয়ার হোসেন পিয়ার, ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মাহবুবুল আলম হিরুসহ সকল পরাজিত প্রার্থী ও সমর্থক এবং উপজেলার বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে পরাজিত প্রার্থীদের পুনঃ নির্বাচনের দাবী সম্মিলিতভাবে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক পর্যায়ে সৃষ্ট ঘটনার সমাধান আনা হয়। তাছাড়া পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয় তালাবদ্ধ সিলগালা করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে পরাজিত সভাপতি প্রার্থী আলহাজ্ব ইছাহাক ও সাধারণ সম্পাদক পদে কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচন পরিচালনার কমিটির সদস্যরা অযোগ্য ও দুর্নীতিপরায়ন, তাহারা একটি কুচক্রীমহলের ইশারাবাহন মাত্র। তাদের স্বজনপ্রীতিমুলক ফলাফল ঘোষনায় সাধারণ শ্রমিকরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। তবে ওই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল পূর্বক পুনঃ নির্বাচন ঘোষনা না দিলে মামলা-হামলাসহ বৃহত্তর আন্দোলনের মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে বলে প্রকাশ্যে হুমকী প্রদর্শন করেন। তাছাড়া এ নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতি করে সংগঠনের প্রায় ৯ লাখ টাকার নির্বাচন ব্যায় হিসাব দেয়ায় ক্ষুদ্ধতা প্রকাশ করেছে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য এ্যাড. গোলাম ফারুক বলেন, পরাজিত প্রার্থী ও সমর্থকদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে আগামী (২৫ নভেম্বর) শুক্রবার বিকালে আলোচনা পূর্বক সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহান বলেন, শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচন তাদের নেতৃত্বেই হয়ে থাকে। তবে নির্বাচনটি নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নসহ বিক্ষুদ্ধতা দেখা দেয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে আপাতত: সংগঠনের কার্যালয় তালাবদ্ধ ও সীলগালা করে রাখা হয়েছে। সমাধান হলেই খুলে দেয়া হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.