বগুড়া শেরপুরে  ১১ কি.মি সড়কের প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন

0 ১২০

দীপক কুমার সরকার, বগুড়া: বগুড়ার শেরপুরের শেরুয়া বটতলা-ভবানীপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়কের প্রশস্তকরণ কাজের শুভ উদ্বোধন হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি)অধীনে সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় শেরপুর জিসি-নিমগাছি জিসি ভায়া শেরুয়া বটতলা-ভবানীপুর ইউনিয়ন সড়কের(শেরপুর অংশ) উন্নয়ন কাজ। এতে প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়ে ১৭ কোটি ৫৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা।

২৪ এপ্রিল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শাহ-বন্দেগী ইউনিয়নের শেরুয়া বটতলায় এক কাজের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মজিবর রহমান মজনু। এসময় আরডিআইআর ডব্লিউ এস পি প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুল বারেক মন্ডল, বগুড়া এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুছ আলী বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শাহ জামাল সিরাজী, উপজেলা প্রকৌশলী মো. লিয়াকত হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ, শাহ বন্দেগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওঃ আবুল কালাম আজাদ, ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স বরেন্দ্র কন্সট্্রাকশন লিমিটেডের পরিচালক আসাদুজ্জামান লিটন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়া শেরপুরের ভবানীপুর ইউয়িনে মা ভবানীর মন্দির ঐতিহাসিক মন্দির হিসেবে পরিচিত। এটি উপমহাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫১টি পীঠস্থানের মধ্যে এটি অন্যতম। এখানে প্রতিবছর দুটো অনুষ্ঠান মাঘী পুর্ণিমা ও রাম নবমী উৎসবে দেশি-বিদেশি পুণ্যার্থী ও ভক্তকুলের আগমন ঘটে।

শেরপুরের শেরুয়া বটতলা-ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিদর্শক পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্থের দিকে প্রায় ৫৬ ফুট ছিল। কথিত আছে নাটোরের রানী মা ভবানীর নামানুসারেই এই রাস্তার পূর্ব নাম ছিল রাণী জাংগাল সড়ক। এই সড়ক দিয়ে রাজ পরিবারের লোকজনের হাতি-ঘোড়া নিয়ে এ মন্দিরে যাতায়াত করতো। এখন এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া, নাটোর, রাজশাহীর হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে আসছেন। বিশেষ করে মাঘী পূর্ণিমা ও রাম নবমী উৎসব ঘিরে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল, ভুটান, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে লাখো পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে মা ভবানীর মন্দির প্রাঙ্গণে।

কিন্তু তৎকালীন সময়ের প্রশস্তকরণ সড়কটি কালের পরিক্রমায় বেদখল হয়ে গেছে। সড়কটির উভয় পাশে বসতি ও মিল-চাতাল গড়ে ওঠায় সংকুচিত গেছে অনেকটাই। বর্তমানে সড়কটির ১০ফুট পাকাকরণ করে যানবাহন ও জনমানুষ চলাচল করছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব নকশা অনুযায়ী সড়কটি বেদখলমুক্ত ও প্রশস্তকরণের দাবী করে আসছিল মন্দির পরিচালনা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা সহ সচেতন অধিবাসীরা।

এসব দাবীর প্রেক্ষিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ওই সড়কটির প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয় এলজিইডি দপ্তর। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ এপ্রিল স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি)অধীনে সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় শেরপুর জিসি-নিমগাছি জিসি ভায়া শেরুয়া বটতলা-ভবানীপুর ইউনিয়ন সড়কের(শেরপুর অংশ) উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন হয়।

মা ভবানী মন্দিবের স্থানীয় তত্বাধায়ক অপূর্ব আচার্য বলেন, উপমহাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫১টি পীঠস্থানের মধ্যে এটি অন্যতম মা ভবানী মন্দির। কিন্তু এ মন্দিরের উৎসবের সময় দুর-দুরান্ত থেকে যানবাহনগুলো নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারেনা। তাই দীর্ঘদিন ধরে শেরুয়া বটতলা-ভবানীপুর(রানী জাংগাল)সড়কটি সংকুচিত হওয়ায় প্রশস্তকরণের দাবী করে আসছিলাম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

ভবানীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের দেয়া সম্পত্তির মধ্যে সড়কটি অনেক প্রশস্ততা ছিল। কিন্তু আস্তে আস্তে বেদখল হয়ে রাস্তাটি সংকুচিত হয়ে গেছে। তাই রাস্তাটির বেদখলমুক্তকরণ করে এবং সংস্কার পূর্বক চলাচল উপযোগী করার দাবী জানিয়ে আসছিল উপজেলা প্রশাসনের কাছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী মো. লিয়াকত হোসেন বলেন, ওই সড়কটির উভয় পার্শে¦ অনেকট দখল করে কিছু বসতি ও মিল-কারখানার অংশ গড়ে উঠেছে। যেহেতু বর্তমানে ওই সড়কটি যানবাহন ও চলাচলে অনেকই গুরুত্ব পূর্ব। সেহেতু একটি আরো প্রশস্তকরণ ও শক্তিকরণ করা প্রয়োজন। তাই স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর(এলজিইডি)অধীনে সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় শেরপুর জিসি-নিমগাছি জিসি ভায়া শেরুয়া বটতলা-ভবানীপুর ইউনিয়ন সড়কের(শেরপুর অংশ) উন্নয়ন কাজ।

এ রাস্তার সংস্কার কাজে পূর্বে ১২ ফুট কার্পেটিং থাকলেও সেক্ষেত্রে সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ কাজে বৃদ্ধি করে ১৮ ফুট কার্পেটিং করা হবে এবং অচিরেই রাস্তাটি বেদখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে ওই কর্মকর্তা দাবী করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.