বগুড়ার শেরপুরে তীব্র শীতের প্রকোপে দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ

0 435

শেরপুর(বগুড়া) প্রতিনিধি: উত্তর থেকে ধেঁয়ে আসা কয়েকদিনের শৈত্য প্রবাহের ফলে তীব্র শীতে কনকনে ঠান্ডাসহ প্রকৃতির ঘন কুয়াশার বৃষ্টিতে স্থবির হয়ে পড়েছে বগুড়ার শেরপুরের জনজীবন। তবে বর্তমানে তাপমাত্রা অনেকটা উন্নতি হলেও কমছেনা শীতের প্রকটতা। এতে নি¤œ আয়ের মানুষগুলো কাজের সন্ধানে না যেতে পেরে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। বাড়ছে শীতজনিত রোগাই। চাহিদার তুলনায় মিলছেনা সরকারি শীত বস্ত্র।
গত কয়েক দিন ধরে শৈত্য প্রবাহের ফলে প্রায়ই সন্ধ্যার পর তাপমাত্রা কমে যাওয়া সহ যোগ হয় কনকনে ঠান্ডা বাতাস। এতে শীতের তীব্রতায় মানুষের স্বাভাবিক কর্মকান্ড অনেকটা স্থবির হয়েছে। শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। উপজেলার সরকারী ও বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে শ্বাসকষ্ট, আমাশয়, জ¦র ও সর্দিতে আক্রান্ত রোগিরও বাড়ছে তুলনামুলনহারে।
ঘন কুয়াশার চাদরে আকাশ ঢাকা পরায় ও প্রচন্ড শীতে জবুথবু সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ছে। বেলা দুপুর গড়িয়ে গেলেও কুয়াশার সাথে সূর্য্যমিামার লুকোচুরি খেলা মাঝেমধ্যেই দেখা যায়। বিকালে শীতের তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় শীতার্ত মানুষগুলো ছুটছে গরম কাপড়ের সন্ধানে ফুটপাত থেকে বিলাশবহুল পোষাক বিপনীগুলোতে। শেরপুর পৌর শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ড এলাকার কয়েকটি শপিংমল, হাটখোলা রোড, বারদুয়ারী হাট সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানের হাট-বাজারে ফুটপাতের শীতবস্ত্র দোকানীরা গরম কাপড়ের দোকান সাজিয়ে বসেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৯টা অবদি পর্যন্ত দোকানগুলোতে চলছে বেচাকেনা। ক্রেতাদের মধ্যে বেশীরভাগই রয়েছে মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
এদিকে ঘন কুয়াশার কারণে উপজেলার প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল বিঘিœত হওয়ার পাশাপাশি শীতের তীব্রতার কারণে ইরি-বোরো মৌসুমে চাষাবাদসহ স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছেনা নিম্নআয়ের মানুষগুলো।
সরেজমিনে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকেও উপজেলার গ্রামাঞ্চল ছিল কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকতে দেখা যায়। আবাদী ক্ষেত-খামারসহ এমনকি রাস্তা-ঘাটেও লোকজনের উপস্থিতি অপেক্ষাকাংশ কম ছিল। চলতি বছরে পৌষে শীতের প্রথম আঘাত এটি। পৌষের শেষে শীত এলেও পুরো মাঘ মাসজুড়ে বগুড়াসহ উত্তর জনপদের জেলা গুলোতে শীতের প্রকটতা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট অফিস। তবে শীত বস্ত্রের অভাবে অনেক হতদরিদ্র ও সর্বনিম্নবিত্তরা খড়কুটো জ্বেলে শীত নিবারন করার চেষ্টা করছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা শীতের কবল থেকে গবাদী পশুগুলোকে রক্ষা করতে গায়ে চটের বস্তা দিয়ে ঢেঁকে রাখছে। শীত নিবারনে শীতবস্ত্রের জন্য দরিদ্র ও সর্বনিম্ন আয়ের মানুষরা ছোটাছুটি করছে সমাজের বিত্তবানদের কাছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের দারিদ্রের হার ২৪.৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৯৩ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। মূলত গ্রামীন এলাকায় হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেশী।
এ ব্যাপারে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক, চাঁদপুর গ্রামের মনিন্দ্র নাথসহ কয়েকজন শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গত দুইদিন ধরে কোনো কাজ পাচ্ছেন না। ঘন কুয়াশার কারণে মাঠেও তেমন কাজ নেই। আর কয়েকদিন এমন অবস্থা বিরাজ করলে না খেয়ে থাকতে হবে বলে জানান তারা।
এদিকে, শীতের তীব্রতা বাড়ায় বোরো বীজতলা ও রবিশস্য ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকলে বোরো বীজতলা ও রবি ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম বলেন, শীতের প্রকটতা বেশী। তবে শীতার্তদের মাঝে সরকারিভাবে শেরপুর পৌরসভাসহ ১০ ইউনিয়নে ৫,১২৫টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া আরো কম্বলের চাহিদাও উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.

x