বগুড়ার শেরপুরে দিন দুপুরে গরু ছিনতাই করে নিয়ে বিক্রির অভিযোগে মামলা ॥ ছিনতাইকৃত গরু ক্রয়কারী ৪ সদস্য গ্রেফতার মামলার স্বাক্ষী বানিয়ে ছেড়ে দিল পুলিশ

793

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শেরপুরে আম্বইলে দিন দুপুরে গৃহস্থের বাড়ীর গোয়াল থেকে গরু ছিনতাই করে নিয়ে অন্যকে মালিক বানিয়ে বিক্রি করেছে ইউপি সদস্য, চৌকিদারসহ সক্রিয় কয়েকজন দুস্কৃতকারী।এ ঘটনায় থানায় অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৭ অক্টোবর বিকালে ওই ছিনতাইকৃত গরুগুলো ক্রয়ের অভিযোগে ৪ ব্যবসায়ীকে গ্রেফতারপূর্বক গরুগুলো উদ্ধার করে থানায় আনে পুলিশ। পরবর্তীতে রাতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের গোপন মধ্যস্থতায় চুরির ঘটনায় মামলার স্বাক্ষী বানানোর অজুহাতে মুচলেকায় থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানা যায়, উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আম্বইল পশ্চিমপাড়া গ্রামে পূর্ব শক্রতার জের ধরে গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গ্রামবাসীদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে একই এলাকার ইউপি সদস্য একরামুল হক, চৌকিদার সুকুমার সিং ও নাদু সিং, জয় সিং, সন্তোষ সিং, সুধীন সিং, জীতেন, গজেন, শামীম সহ কয়েকজন মৃত যোগেশ্বর সরকারের ছেলে রবীন্দ্রনাথ সরকারের বাড়িতে যায়। এসময় দুস্কৃতকারীরা গৃহস্থ রবীন্দ্রসহ তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তার গোয়ালে বাধা ৩টি দেশীয় গরু জোরপূর্বক ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য ইমরুল হোসেন অন্য একজনকে গরুর মালিকের রশিদ দিয়ে ওইদিন ছোনকা বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। এসময় গরু বিক্রির কসাই ও দু’জন ব্যবসায়ি ৭২ হাজার টাকায় গরুগুলো ক্রয় করে। এদিকে দিনদুপুরে গরু ছিনতাইপূর্বক বিক্রির ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর ওই ভুক্তভোগী রবীন্দ্রনাথ বাদি হয়ে শেরপুর থানায় অভিযোগ দেওয়ার প্রেক্ষিতে গত ২৭ অক্টোবর শুক্রবার বেলা ৩টার দিকে থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাহেব গনি ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ওই গরুক্রয়কারী ৪জন ব্যবসায়ী ছোনকা এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান পান্নু, ছাবেদ আলীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম, আব্দুল বারীর ছেলে নজরুল ইসলাম, এমদাদ আলী ছেলে আমিনুল ইসলামকে ছিনতাইকৃত গরু ক্রয় ও রাখার অভিযোগে গ্রেফতার করে এবং ছোনকা গ্রামের নজরুলের বাড়ি থেকে গরুগুলো উদ্ধার করে থানায় আনে। এ ঘটনায় ওই রাতেই রবীন্দ্রনাথ বাদি হয়ে ইউপি সদস্য ইমরুল, চৌকিদার সুকুমার সহ ৯জনকে আসামী করে থানায় মামলা নং ২৪ দায়ের করে উদ্ধাকৃত গরুগুলো বাড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে থানায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের ক্ষমতাসীন নেতাদের গোপন মধ্যস্থতায় গ্রেফতারকৃত ৪জনকে সংশ্লিস্ট মামলার স্বাক্ষী বানানোর অজুহাতের নাটক সাজিয়ে তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এদিকে প্রকাশ্যে গরু ছিনতাই ও বিক্রির ঘটনায় বিস্তারিত জানতে চাইলে ভুক্তভোগী গৃহস্থ রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী লতা রানী বলেন, ওই এলাকা আম্বইলে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের ক্রয়করা জমি নিয়ে মামলা হওয়ায় ও আমার স্বামী স্বাক্ষী দেওয়ায় এবং ওই জমি চাষ করায় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ইমরুল ও চৌকিদার সুকুমারসহ কয়েকজন প্রতিনিয়ত নানা হুমকী ধামকী দিয়ে আসছিল। এরই ফলে তারা প্রকাশ্যে এই ঘটনাটি ঘটান বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি।
এ ব্যাপারে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক সাহেব গণী বলেন, গরু ছিনতাই পূর্বক অবৈধ বিক্রির ফলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে গরুগুলো উদ্ধার ও ক্রয়কারীদের আটক করে থানায় নিয়ে আসি। তবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কি করেছে তা আমার জানা নেই।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোঃ এরফান সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

x