বগুড়ার শেরপুরে হলুদে সেজেছে ফসলের মাঠ

701

শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি : প্রকৃতিতে বইছে বেশ শৈত্যতা, ভোরের শিশির, শীত সকালের মিষ্টি রোদ আর শীতল বাতাসে সারিবদ্ধ সরষে তরু হলুদ পুষ্পকে শরীরে আগলে শীত উৎসবের আনন্দে উদ্বেলিত। তবুও দিগন্ত জোড়া হলুদে মাতোয়ারায় ফুলের আবরণে ঢাকা পড়েছে ফসলের জমিগুলো। এ স্বাদ গ্রহনে মধুচাষীরাও সরষে ফুলের মধু সংগ্রহে তাদের চাষকৃত মৌমাছির বাক্স নিয়ে আবাস গড়েছে মাঠে মাঠে। আর তাই এখন বগুড়ার শেরপুরের মাঠগুলোতে বসেছে মৌমাছি ও ভ্রমরের মেলা। ভ্রমরের ঠোট ও হুলের স্পর্শের ব্যাকুল যৌবনবতী হলদে রানীও প্রস্তুত হচ্ছে শস্য ধারণে।
কয়েকদফা বন্যায় ধান চাষে কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় সেই ক্ষতি পুশিয়ে নিতে তারা সরিষা চাষে ঝুকে পরেছেন। চাষাবাদ শেষ এখন হলুদে সেজেছে বিস্তৃত ফসলের মাঠ। কেননা এবার বগুড়ার শেরপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী পরিমান জমিতে সরিষা লাগানো হয়েছে। আর এই ফসলের জন্য আবহাওয়া মোটামুটি অনুকুলে থাকায় এবছর সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানা যায়, গত মৌসুমে এই উপজেলায় ২৬’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারন হলেও অর্জিত হয়েছিল ১৯’শ হেক্টর জমি। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর ১৯’শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ১৫’শ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হচ্ছে। যাহা গত বছরের তুলনায় ৪’শ হেক্টর কম।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার কৃষকরা সরিষার পাশাপাশি রকমারি রবি ফসল চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে খন্ড খন্ড জমিতে লাগানো সরিষার হলুদ ফুলের অপরুপ দৃশ্য মাঠে-প্রান্তরে শোভা পাচ্ছে। উপজেলার শঠিবাড়ীর আব্দুল কুদ্দুস, মোজাম্মেল হক , আব্দুল ওয়াদুদ, খানপুরের আকিম উদ্দিন, খয়বর আলী, জয়নগরের জহুরুল ইসলাম, বিশালপুরের ওয়াজেদ আলী, জাকির হোসেন, সহ একাধিক সরিষা চাষী বলেন, আমরা সম্প্রতি গেল আমন মৌসুমে ধানে প্রচন্ড মার খেয়েছি। ধানের ফলন ভালো হলেও ন্যায্য দাম পাইনি। বাজার দরপতন লেগেই আছে ফলে প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ জাহার টাকা করে লোকসান খেয়েছি। তাই ধানের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নিতে বোরো মৌসুমের আগে জমিতে সরিষা সহ রকমারি রবি ফসল চাষ করছি।
রবিশষ্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব জমিতে আবার বোরো চাষ হবে। এসব চাষিরা জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষের শুরু থেকে ঘরের উঠান পর্যন্ত ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। মোটামুটি ভালো ফলন হলে উৎপাদন খরচ বাদে ৭-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ হতে পারে। তবে বাজার ভালো থাকলে সরিষায় আরোও বেশী মুনাফা অর্জন সম্ভব বলে তারা জানান। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান জানান, আবহাওয়া ভাল না থাকার কারণে মাটির আদ্রতা চাষ উপযোগী না হওয়া, এমনকি কৃষকরা ভুট্টাসহ অন্যান্য রবিশষ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ায় এ বছর সরিষার চাষ কিছুটা কম হয়েছে। তবে রোগবালাই হওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। সব মিলেয়ে এবারও লক্ষামাত্রা অর্জনসহ সরিষার বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

x