বগুড়ায় জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট ॥ বিক্রেতা চড়া মুল্যে, ক্রেতাদের নাভিশ্বাস

584

pic-eid-korbani-sherpur-09-sep-2016-2দীপক সরকার : বগুড়ার বিভিন্ন উপজেলার পশুর হাটগুলোতে এবছর ভারতীয় গরু না আসায় দেশীয় খামারীদের গরুতে জমে উঠেছে। বিগত বছরের তুলনায় বিক্রেতাদের চাওয়া মূল্য অনেক বেশী হওয়ায় ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। তাছাড়া সরকারীভাবে হাট-বাজার ইজারা নীতিমালা উপেক্ষা করে হাটগুলোর কতিপয় ইজারাদারদের বিরুদ্ধে পশু ক্রয়-বিক্রয়ে অতিরিক্ত হারে টোল আদায়ের অভিযোগও রয়েছে অনেক ক্রেতাদের।
বগুড়ার শিবগগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান হাট, সাজাহানপুরের সুলতানগঞ্জ, দুবলাগাড়ী সহ শেরপুর বারদুয়ারী হাট, ছোনকা, জামাইল নামক স্থানে হাট বসে। প্রতিটি পশুর হাটেই বিপুল পরিমান  কোরবানীর পশু গরু ছাগল, মহিষ, ভেঁড়া বিক্রির জন্য ওঠে। আসন্ন ঈদুল আযহা (কোরবানী)র ঈদকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার পশুর হাট গুলোতে এবারে পশুর আমদানি ও বিক্রি জমে উঠেছে। ঈদকে সামনে রেখে বর্তমানে এসব পশুর হাটে দুপুর থেকে সন্ধ্যা রাত পর্যন্ত লাইটিং ব্যবস্থায় কেনা, বেচা চলছে। বিগত বছরের তুলনায় এবার পশুর মূল্য অনেক গুন বেশী বলে হাটে পশু কেনার জন্য আগত ক্রেতারা জানান।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে শেরপুর উপজেলার বারদুয়ারী পশুরহাট ঘুরে দেখা গেছে,  এবছর ভারতীয় গরু না আসায় হাট, বাজারগুলোতে দেশীয় গরুর আমদানী বেড়েছে। এবার দেশীয় গরুর চাহিদা ও দাম দুটোই  বেশি। তবে এবারের হাটে দেশী ষাঁড় ও এঁড়ে গরুর চাহিদা বেশী। তবে বলদ, বকনা, মহিষ সহ ছাগল, ভেঁড়ার আমদানীও অনেক। তাছাড়া অনেক খামারীরা এ ঈদকে সামনে রেখে কয়েকমাস থেকে গরু মোটাতাজাকরণসহ বিভিন্ন অভিহিত করে পশুহাটে নিয়ে এসে পশুর নামকরণে দাম হাঁকাচ্ছেন। এবারের হাটে একটি ষাঁড়, এঁড়ে গরু ৪০ থেকে ১ল ২৫ হাজার টাকা, বলদ, বকনা, বাঁঝা গরু ৩০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা, ছাগল ৫থেকে ২৫হাজার টাকা, ভেঁড়া ৩ থেকে ১০হাজার টাকায় বেচা কেনা চলছে। তবে দাম বেশিতে বিক্রি করতে পেরে  বিক্রেতারা খুশি হলেও ক্রেতাদের নাভিস্বাস উঠেছে। উপজেলার শালফা গ্রামের গরু ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম, সুজাব আলী, সোলেমান আলী ১০/১২ টি ক্রস জাতের গরু তুলেছে এই হাটে, দাম হাঁকাচ্ছেন ১ লাখ থেকে পৌনে ২লাখ টাকা। অন্যদিকে পারভবানীপুর গ্রামের সাজেদুল ইসলাম বাবু’র আট দাঁতের একজোড়া “পাগলু” নামের খাসি হাটের তুলনায় অন্যান্য খাসিদের তুলনায় হাটের সেরায় পরিণত হওয়ায় দুটির দাম হাঁকিয়েছে ১লাখ ২০ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে ক্রেতারা ৮০/৮৫ হাজার টাকা দাম বলায় লাখের নিচে বিক্রি করবেনা বলে জানিয়ে দিয়ে বেশী দামের আশায় হাটে অপেক্ষা করছে।
অন্যদিকে এবারে অন্যান্য বছরের তুলনায় পশু হাটগুলো বেচাকেনার েেত্র দালাল বা ফরিয়াদের  দৌরাত্ম ও দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের দাপটে বিক্রেতারা যেমন বিপাকে পড়েছে, তেমনি কোরবানীর পশু কিনতে হিমশিম খাচ্ছে  ক্রেতারাও । আবার কেউবা চড়া দামে কিনতে বাধ্যও হচ্ছে। দেশীয় খামারীদের গরু কিনতে পেরে তবুও খুশি হয়ে বাড়ি ফিরছে ক্রেতারা। এদিকে   পশু কিনে টোল দিতে ইজারাদারদের লোকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে ক্রেতারা। এসব হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ ক্রেতাদের। হাটগুলোর কোন স্থানেই টোল আদায়ের সরকারী  সাইন বোর্ড না থাকায়  বিড়ম্বনায় পড়ছে ক্রেতারা। এ কারণে ইজারাদারদের লোকদের সাথে  ক্রেতাদের মধ্যে নানা বাকবিতন্ডার পড়েও অতিরিক্ত টোল বা খাজনা দিয়ে হাটের এরিয়া ছাড়তে হচ্ছে।  এসব হাটে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ঠেকাতে নেই কোন সরকারী তদারকি ব্যবস্থা।
এদিকে  ঈদকে সামনে রেখে প্রতারক চক্ররা উপজেলার পশুরহাটগুলোতে জাল টাকার ব্যবহারে সক্রিয় উঠেছে। তবে এসব প্রতিকারে তদারকি দল হিসেবে হাটে ব্যাংক কর্তৃপক্ষে পক্ষ থেকে ব্যানার লাগানো থাকলেও জাল টাকা পরীার জন্য কোন কর্মকর্তাদের চোখে পড়েনি।  গরু কিনতে বা বেচতে  এসে জাল টাকা পেয়ে অনেকে প্রতারনার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়াও সরকারী নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি হাটে অবৈধভাবে মোটাতাজা করে গরু বিক্রি করা হচ্ছে কিনা তা পরীা করার জন্যও অনুরূপভাবে ব্যানার থাতলেও উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে দেখা  মেলিনি।
এবারে বিগত বছরের তুলনায় পশুর মূল্য তুলনামূলক বেশী হলেও ক্রেতারা তাদের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে কোরবানীর পশু কিনছেন। তবে চাকুরীজীবিদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে বৃহস্পতিবার পুরোদিন শেষ হওয়ায় হাটে চাকুরীজীবিদের উপস্থিতির সংখ্যাও ছিলো কম। তাছাড়া  ঈদের ২/১ দিন আগে পশুর মূল্য কিছুটা কমবে বলে তাদের ধারনায় অনেক ক্রেতারা কোরবানীর পশু কিনতে দেরী করছেন বলে শেরপুর বারদুয়ারী হাটের ইজারাদার আসাদুর রহমান দুলু জানান। তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বের ইজারাদারদের চেয়ে ঈদে কোরবারী পশুর হাটে খাজনা বা টোল অতিরিক্ত নেয়া হচ্ছেনা। তবে খাসি ৩ থেকে ৫‘শ টাকা ও গরু ৫ থেকে ৬‘শ টাকা হারে নেয়া হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সরোয়ার জাহানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২০১৬ সালের হাট-বাজার ইজারার টোল আদায়ের চার্ট অনুযায়ী টোল আদায় করতে হবে। তার অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে ওইসব হাটের ইজারাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া হাটে ইজারাদারদের চার্ট বোর্ড লাগিয়ে  খাজনা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি জানান।

x