বগুড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ফাটল, ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা

767

বগুড়া প্রতিনিধি:
উত্তরাঞ্চলের রংপুর, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম সহ কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও বগুড়ার সারিয়াকান্দি পয়েন্টে যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ যমুনার পানি বিপদসীমার ১২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির অব্যাহত চাপের কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে বাঁধের ওপর আশ্রয় নেয়া পারিববারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অনুরোধ জানিয়ে মাইকে প্রচার চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে বগুড়ার যমুনা নদী তীরবর্তী বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বগুড়া পরিচালক ও সংরক্ষণ বিভাগের নিয়ন্ত্রাধীন ৪৫ কিলোমিটার ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের (বিআরই) বিভিন্ন পয়েন্ট হুমকির মুখে পড়েছে। ফাটল, ইঁদুরের গর্ত (র‌্যাটহোল) এবং দুর্বল অংশে পানি চুইয়ে (সিপেস) পড়ার কারণে বাঁধ ক্রমশ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ফলে সারিয়াকান্দি অংশের ওপর বসবাসকারি ১৩ হাজার পরিবার চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সারিয়াকান্দি উপজেলার গোদাখালি, ইছামারা, রৌহাদহ, কুতুবপুর, শেখপাড়া, দিঘলকান্দি, হাটশেরপুর, পারতিতপরল এবং ধুনট উপজেলার শহরাবাড়ি ও ভান্ডারবাড়ি পয়েন্টে বাঁধের নাজুক অবস্থা। লোকালয় অংশের চেয়ে নদীমুখ অংশের পানি প্রায় ৮ ফুট উচ্চতায় থাকায় ওই পয়েন্টে দুর্বল বাঁধ ভেঙে যেকোন মূহুর্তে লোকালয়ে পানি প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের যেকোনো পয়েন্ট ভেঙে গেলে নদীতীরবর্তী সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলা ছাড়াও শেরপুর ও গাবতলী উপজেলার নি¤œ অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একইসঙ্গে ফাটল দেখা দেয়া অংশে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে । তবে “বাঁধ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।” বলে তিনি জানিয়েছেন।

x