বাগাতিপাড়ায় ভিজিডি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

0 826

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ভিজিডি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে খাদ্য অধিদপ্তরের সরবরাহকৃত ভিজিডি কর্মসূচির আওতায় মহিলাদের জন্য ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রতি বস্তায় প্রায় ২ কেজি চাল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে। প্রতি বস্তায় চাল কমদেয়ার প্রমাণ থাকলেও কেন কম দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তাব্যক্তিদের কাছে। সাংবাদিকদের যোগাযোগের পরে সরেজমিনে তদন্ত করে চাল কম হওয়ার ঘটনায় কয়েকটি চালের বস্তা জব্দ করেন উপজেলা প্রশাসন।
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে উপজেলাতে ১৯৮৫ সজন সুবিধাভোগীদের প্রায় দুই কেজি করে চাল কম দেয়া হয়েছে তাহলে প্রায় ৪ হাজার কেজি চাল যাচ্ছে কোথায়? সুবিধাভোগীদের মধ্যে কয়েকজন নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, আমরা প্রতিবারই চাল কম পাই। কিন্তু কার্ড হারানোর ভয়ে প্রকাশ করতে পারিনা।
সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া ইউনিয়নের সুবিধাভোগীরা ভিজিডি চাউল ইউনিয়ন থেকে নিয়ে বাড়ী যাওয়ার পূর্বে ওজন পারীক্ষা করে দেখেন প্রতি বস্তাতেই প্রায় দুই কেজি করে চাল কম। বাগাতিপাড়া উপজেলাতে সকল ইউনিয়নের মোট ১৯৮৫ জন সুবিধাভোগীকে এই খাদ্য শষ্য দেওয়া হচ্ছে। প্রতিজনকেই দুই কেজি করে চাল কম দেয়ার বিষয়ে উপজেলায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্তাব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠে আসে। খাদ্য শষ্য বিতরণের সময় একজন ট্যাগ অফিসার থাকার কথা থাকলেও ৩ নং বাগাতিপাড়া ইউনিয়নের দায়িত্বরত অফিসারকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিজনের জন্য বরাদ্দ ৩০ কেজি চাল না দিয়ে কেন দুই কেজি কম দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার জাহেদুর রহমান বলেন, ‘আমার গোডাউন থেকে চেয়ারম্যান সাহেবরা সঠিকভাবে চাল বুঝকরে নিয়ে যান। পরে চাল কম হলে আমার কিছু করার নেই।’
খাদ্য শষ্য বিতরণের সময় ট্যাগ অফিসার হিসেবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আহাদ আলী উপস্থিত থাকার কথা কিন্তু তিনি কেন নেই এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘আমি আপনার কথার জবাব দিহিতা করতে বাধ্য নই।’
৩ নং বাগাতিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ‘আমরা সকল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খাদ্য গুদাম থেকে একইভাবে কাটাদাড়িতে চাল মেপে নেই। কিন্তু ডিজিটাল পল্লায়  মাপতে গিয়ে চাল কম হয়। ’
এব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন বলেন, অভিযোগের  সত্যতা মেলায় কয়েকটি বস্তা জব্দ করা হয়। পরে চালের বস্তা গুলো উপজেলা খাদ্য গুদামের কাটাতে পরীক্ষা করা হলে খাদ্য গুদামের কাটা পাল্লার মধ্যেই সমস্য দেখায়। এই সমস্যার সমাধান করতে হলে ডিজিটাল পাল্লার ব্যবহার এবং বস্তার মুখ মেশিনে শেলাইয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।’

Leave A Reply

Your email address will not be published.