বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতায় আসার নীল নকশা আর কখনো বাস্তবায়ন হবে না- লিটন

0 ৯৮

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পুনঃনির্বাচিত মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, ‘আমরা যারা স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ, আমাদের মধ্যে অনেকেরই পূর্বপুরুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে দেশকে স্বাধীনতা করার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, তাদের কেউ ফিরে এসেছেন, আবার কেউ আর ফিরে আসেননি। আমাদের রক্তের মধ্যে সেই চেতনা আছে। আমরা বেঁচে থাকতে এই বাংলার মাটিতে বিএনপি-জামায়াতের নীল নকশা, তারা ক্ষমতায় বসে জনগণের সম্পদ লুন্ঠুন করবে, দেশকে শোষণ করবে, সেটি আর কখনো বাস্তবায়ন হবে না। এটি আমরা হতে দেবো না।’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ সকল শহীদের  স্মরণে বোয়ালিয়া (পূর্ব ও পশ্চিম) থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে  নগরীর জয় বাংলা চত্বরে আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন,  আমরা দীর্ঘদিন বিএনপিকে নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের বারবার নির্বাচনে আসার জন্য বলেছেন। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, নির্বাচনে আসুন। জনগণ যদি আপনাদের রায় দেয়, তাহলে ক্ষমতায় যাবেন। আপনারা নির্বাচনে আসবেন না, আসার আগে শর্ত দেবেন, আওয়ামী লীগকে পদত্যাগ করতে হবে, কেয়ারটেকার সরকার দিতে হবে, এটি মামার বাড়ির আবদার ছাড়া আর কিছুই নয়। যে কেয়ারটেকার সরকার পাকিস্তান ছাড়া আর কোথাও তেমন দেখা যাচ্ছে না। তারা তো পাকিস্তানের মতো করে কথা বলবেই, কারণ তাদের ভালোবাসার দেশতো পাকিস্তান, তাদের আদর্শের দেশতো পাকিস্তান। যে পাকিস্তান ১৯৭১ সালে এদেশের মানুষকে হত্যা করেছে, লুণ্ঠুন করেছে, নিপীড়ন করেছে, বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়ে চলে গেছে, সেই পাপে পাকিস্তান আজ নিজেই দগ্ধ হচ্ছে, পাকিস্তানের অর্থনীতি বলতে কিছু নেই, ধার-ভিক্ষা করে চলছে। সেই পাকিস্তানের পেছনে যারা কাতারবদ্ধ হয় তাদেরকে ধিক্কার জানানো ছাড়া আমার আর কিছু বলার ভাষা নেই।

তিনি আরো বলেন, জাতির পিতার ডাকে বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিয়ে স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করেছিল। তারই পথ বেয়ে বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ বাঙালি হাতে অস্ত্র নিয়ে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। সেই বাঙালি জাতির ওপর খবরদারি করা বা ভয়ভীতি দেখানো, আমরা সেই জাতি নই, যারা মাথা নত করে সব কথা মেনে নিবো। আমাদের দেশের নির্বাচন কীভাবে হবে, সেটি আমাদের জনগণ, আমাদের সংবিধান, আমাদের উচ্চ আদালত নির্ধারণ করে দেবে এবং সেইভাবে নির্বাচন হয়েছে এবং আগামীতে হবে।

রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন, তাঁর মৃত্যুর কারণে সেটি অসমাপ্ত থেকে গেছে। আজকে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি একটার পর একটা উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচনের এই বছরে অনেক মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন, যা থেকে দেশ ও জনগণ লাভবান হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বজনীন পেনশন স্কিম চালু করেছেন। সেটি ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। যারা বেসরকারি চাকরি করেন বা সাধারণ মানুষ তাদের জন্য এই পেনশন স্কিম একটা সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া তিনি পদ্মা সেতু করে দিয়েছেন, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিয়েছেন, দেশের সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার এতো বেশি উন্নয়ন করেছে, আমরাই তো জনগণের কাছে ভোট চাইবো। জনগণ আওয়ামী লীগের উপরও আস্থা রাখবে।

স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহ্সানুল হক পিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আসলাম সরকার। বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আতিকুর রহমান কালু এঁর সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুস সালাম, বোয়ালিয়া (পূর্ব) থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ। সভা সঞ্চালনা করেন বোয়ালিয়া (পশ্চিম) থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান রতন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাড. মুসাব্বিরুল ইসলাম, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক ফিরোজ কবির সেন্টু, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, প্রচার সম্পাদক দিলীপ কুমার ঘোষ, শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক ওমর শরীফ রাজিব, শ্রম সম্পাদক আব্দুস সোহেল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা: ফ ম আ জাহিদ, সদস্য হাবিবুর রহমান বাবু, শাহাব উদ্দিন, মোখলেশুর রহমান কচি, এ্যাড. রাশেদ-উন-নবী আহসান প্রমুখ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.