মহাদেবপুরে লুটপাট ও ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা

0 ৬৭

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুরে নিজেদের আইনের লোক পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মারপিট ও লুটপাটের ঘটনায় মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ ১০ থেকে ১২জনকে অজ্ঞাত আসামী করে গত বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

অপরদিকে একই দিন রাতে মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সুলতানা খাতুন তার ভাসুর মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে অপর একটি মামলা দায়ের করেন। উপজেলার চেরাগপুর ইউনিয়নের উত্তর ঈশ্বরপুর গ্রামের মৃত সামছুল রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন যে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত সোমবার (৩ জুলাই) দুপুরে নিয়ামতপুর উপজেলার পাইকড়া বালিকাপাড়ার আফজাল হোসেনের ছেলে আকতাব উদ্দীন, মৃত বাবর আলীর ছেলে আফজাল হোসেন, মহাদেবপুর উপজেলা সদরের দুলালপাড়ার মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে ডিএম আসাদুজ্জামান রতন, গালর্স স্কুল পাড়ার মৃত রজব আলী বেপরীর ছেলে নওশাদ আলী বেপারী, হোসেনপুর গ্রামের মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. খোকনসহ অজ্ঞাত আরো ১০ থেকে ১২ জন তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়।

এ সময় তারা মোস্তাফিজুর ও তার মা সামছুন নাহারকে মারপিট করে আটকে রেখে বাক্স ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, টিভি ও একটি গাভীসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তাদের লুটপাটে বাঁধা দিলে আসাদুজ্জামান রতন ও নওশাদ আলী নিজেদের আইনের লোক পরিচয়ে বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখায় ও হুমকী প্রদান করে।

অপরদিকে একই দিন রাতে মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই প্রবাসী সোহাগের স্ত্রী সুলতানা খাতুন তার ভাসুর মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তাকে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা চেষ্টা এবং জা রিমা খাতুন ও শাশুড়ী সামছুর নাহারের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সুলতানা খাতুনের স্বামী বিদেশ থাকায় তার ভাসুর মোস্তাফিজুর রহমান প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দিত। গত ২৫ জুন সকালে তার শয়নকক্ষে একা পেয়ে ধর্ষণ চেষ্টা চালায়। সেখান থেকে ছুটে এসে বিষয়টি তার জা রিমা খাতুন ও শাশুড়ী সামছুর নাহারকে জানালে তারা উল্টো সুলতানা খাতুনকে মারপিট করতে থাকে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় তার গলায়, হাতে ও কানে থাকা সোয়া দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, বালা ও কানের দুল খুলে নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, পৃথক দুটি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। উভয় মামলারই তদন্তভার থানার এসআই শাহ আলমের উপর দেয়া হয়েছে। বিষয়টি জানতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শাহ আলমের মোবাইলে বার বার ফোন করা হলেও তিনি মোবাইল রিসিভ করেননি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.