মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ নাচোলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানগণ

0 ১০৩
নাচোল প্রতিনিধিঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবাইদ’র অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নাচোলের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার প্রধানগণ। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবাইদ।
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি(বাশিস)নাচোল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম জানান, বর্তমান শিক্ষা অফিসার যোগদানের পর থেকেই মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের জন্য তিনি রিতিমত বাধ্যতামূলক চাঁদাবাজি করে আসছেন। তাঁর অনিয়ম, দূর্ণীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ হয়ে বাশিস নাচোল শাখার কমিটির ডাকে স্কুল প্রধানগণ গত ৩জুন বিকেলে মুন্সী হযরত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ও ৪জুন রবিবার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রধানদের নিয়ে নাচোল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে দু’দফা সভা করেন।
সেখানে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল কাশেম ওবাইদ’র অসংখ্য অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্যে এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ নীতিমালায় ডিজির প্রতিনিধি (স্থানীয় সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক), মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সমন্বয়ে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ (অনুর্ধ ১৫ কার্য দিবস)নির্ধারণ করার বিধান থাকলেও তিনি ডিজির প্রতিনিধিকে উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করে উৎকোচ গ্রহণের পথকে সুগম করার লক্ষে তড়িঘড়ি করে মাত্র ২/৩ দিনের মধ্যে নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিকে ডিজির মনোনীত প্রতিনিধি নাচোল খ.ম. সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে বাদ দিয়ে রহণপুর এবি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিনকে ডিজির প্রতিনিধি করে এনে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
সম্প্রতি নাচোল উপজেলার দিয়াড়া ডিমকইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ডিজির পূর্বের প্রতিনিধি নাচোল খ.ম. সরকারী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামকে পরিবর্তন করে রহনপুর এবি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিনকে এনে স্বল্প সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
এছাড়া ডিজির প্রতিনিধি জটিলতার কারনে মুন্সী হযরত আলী ও সোনাইচন্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের কর্মচারী নিয়েগ বন্ধ রয়েছে। নতুন এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের সনদপত্রসহ নিয়োগ প্রক্রিয়া যাঁচাই-বাছায়ের জন্য ৩(তিন) সদস্য বিশিষ্ট কমিটির মধ্যে আহ্বায়ক মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, স্থানীয় সরকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা তাঁর মনোনীত প্রতিনিধি সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
কিন্তু তিনি কমিটিকে না জানিয়ে নাচোলে নতুন এমপিওভূক্ত প্রতিষ্ঠান পীরপুর, খিকটা, পাহাড়পুর ও উজিরপুর দরগা নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিকট প্রত্যেক শিক্ষকের জন্য ৩০হাজার টাকা দাবী করেন। তাঁর চাহিদা পূরণ না করলে ওইসব বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিবেদন ডিজি/উচ্চ শিক্ষা দপ্তরে পাঠাবেন না বলে তিনি জানিয়ে দেন। গতকাল রবিবার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক।

Leave A Reply

Your email address will not be published.