মোহনপুরে ইটভাটায় ড্রাম চিমনি পুড়ছে কাঠ

0 ৫১৬

মোহনপুর প্রতিনিধি: রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ড্রাম চিমনি দিয়ে ইটভাটা তৈরী করে প্রকাশ্যে কাঠ পুড়িয়ে তিন ফসলি জমিতে ইট তৈরী করছেন ভাটা মালিকেরা । ইটভাটার মালিকরা মানছে না ইট তৈরি ও ভাটা স্থাপন আইন। তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো আবাসিক,কৃষি জমি ও পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় ইটভাটা স্থাপন করেছে। ভাটার ধূলা,কালো ধোঁয়া ও আগুনের তাপে ধ্বংস হচ্ছে নিকটবর্তী এলাকার ফসল,বনজ সম্পদ ও ফলদ গাছ।

 

এ সকল ইটভাটার কোন প্রকার অনুমোদন নেই। নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কিংবা কৃষি বিভাগের প্রত্যায়নপত্র। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,মোহনপুর উপজেলার ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের ঘাসিগ্রাম হিন্দুপাড়া সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘেঁষে ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে অবৈধ ভাটা স্থাপন করে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরী করছেন “২০২১ বিক্রস” এর স্বত্বাধিকারী একরামুল হক।

 

অন্যদিকে একই ইউনিয়নের বেলনা বড়াইলে আমবাগান,ঝালপুকুর আদিবাসী পাড়া এবং দগাহ সংলগ্ন বারোমাস ফসলি জমিতে ড্রাম চিমনি দিয়ে ইটভাটা স্থাপন করে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরী করছেন “এডি ২১বিক্রস” এর স্বত্তাধিকারী আজিজুল ইসলাম। উক্ত ভাটা দুটিতে ন্যুনতম আইন মানা হয়না। রবিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইট ভাটা দুটোর চারপাশে শত শত মণ কাঠ সাজানো। গাড়িতে করে গাছ কেটে এনে কাঠ পরিমাপ করা হচ্ছে প্রকাশ্যে ভাটার সামনে। ধুকছে কাঠ পুড়ছে ভাটায়। এক টুকরো কয়লার অস্থিত্ব ভাটার কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ভাটার কথা বলতে গেলে, কার ছাড়পত্রের দরকার আছে ? এমন মন্তব্য করে দাম্ভিকতার সাথে বললেন ভাটার মালিক পরিচয়দানকারী আলহাজ্ব আজিজুল হক। তিনি জানান,‘দেশে কত কিছু অবৈধ,আমি তো ইটের ভাটা চালাচ্ছি। তাছাড়া বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন দিবসে চাঁদা হিসেবে উপজেলাসহ অন্যানদের ম্যানেজ করে ইট ভাটা চালাতে হয়। চলতি মৌসুমে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমার ভাটা থেকে ইট চেয়েছেন’।

 

এলাকাবাসীরা জানান, অজ্ঞাত কারো অবৈধ সহায়তায় ঘাসিগ্রাম ইউনিয়নের এই ইট ভাটাদুটি ফসলী জমি এবং বাড়ী ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে। অহরহ কাঠ কিনে ভাটায় আনা হচ্ছে। উজার হচ্ছে এলাকার গাছপালা। পরিবেশ হচ্ছে বিপন্ন। হ্রাস পেয়েছে ফসলি জমি। উপরোক্ত ভাটা দুটো ছাড়াও উপজেলার অন্যান্য ভাটাগুলো চিমনি আইন মেনে চললেও সরকারি বিধিমোতাবেক পরিচালিত হচ্ছে না।

 

এ বিষয়ে উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আশরাফুল আলম এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,ড্রাম চিমনির ব্যবহার ও কাঠ পুড়িয়ে ইটভাটা স্থাপন করা যাবেনা মর্মে ভাটা মালিক আজিজুল এবং একরামুল হককে অনেক আগেই জানানো হয়েছে। তার পরেও তারা অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করছে আসছে।

 

মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানওয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.