যানজটে ব্যাহত বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম

0 59

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল বন্দর এলাকায় যানজটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্দর থেকে খালাশকৃত পণ্য সময় মত পরিবহন করতে না পারায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গার্মেন্টস সহ বিভিন্ন শিল্প কারখানার উৎপাদন প্রক্রিয়া। ফলে আমদানি রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের ধ্বস নামার আশংকা দেখা দিয়েছে। যানজটের কারণে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ভারত গমনাগমনকারী যাত্রীরাও।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৫/৬’শ পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করে। এসব ট্রাক আমদানি-রফতানির পণ্য নিয়ে আসা যাওয়ার সময় বন্দর এলাকায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। বন্দরের নিজস্ব কোন ট্রাক টার্মিনাল না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা বিরাজ করলেও সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে খুব একটা নজরদারি নেই। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, বন্দর এলাকায় যানজট নিরসনে ট্রাক স্ট্যান্ড তৈরির জন্য তারা জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এসব কাজ শেষ হলে অনেকাংশে যানজট অনেকাংশে কমবে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বেনাপোল সড়কে দিনরাত আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী যানবাহনের জট লেগেই আছে। বন্দর থেকে খালাসকৃত পণ্য নিয়ে ট্রাক ও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীবাহী সোহার্দ্য পরিবহনগুলো যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে। এ কারণে ছোট খাট যানবাহনগুলো ঝুঁকি নিয়ে ফুটপাতের উপর দিয়ে চলাচল করছে। ফলে সদ্য নির্মিত ফুটপাত গুলো ভেঙ্গে পথচারী চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৮০ শতাংশ শিল্প কলকারখানার কাচা মাল আমদানি করে থাকেন। দেশে স্থলপথে যে পণ্য আমদানি-রফতানি হয় তার ৭০ শতাংশ পণ্য বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হয়। মাত্র ৪ ঘণ্টায় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে একটি চালান ভারতের কলকাতা থেকে পেট্রাপোল স্থলবন্দর হয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে প্রবেশ করতে পারে। তেমনই একই সময়ে বেনাপোল বন্দর থেকে রফতানি করা বাংলাদেশি পণ্য নিয়ে ট্রাক পৌঁছায় কলকাতা শহরে। এ কারণে ভারতের সাথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের। প্রতিবছর এ বন্দর থেকে সরকার সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। বেনাপোল বন্দরে যানজট সহ অবকাঠামোর পর্যাপ্ত উন্নয়ন না হওয়ায় বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে দু দেশের মধ্যকার আমদানি রফতানি বানিজ্য।

বেনাপোল শ্যামলী পরিবহনের ম্যানেজার গিয়াস উদ্দিন জানান, বেনাপোল থেকে ঢাকা যেতে সময় লাগে ৬ ঘণ্টা। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে যানজটে আটকে থাকতে হয় দুই ঘণ্টা। ফলে তারা যাত্রীদের সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারেন না। বন্দরের নিজস্ব কোন টার্মিনাল না থাকায় খালি ট্রাক গুলো যত্রতত্র ফেলে রাখা হয়। ফলে সারাবছরই যানজট লেগে থাকে।

বেনাপোল আমদানি রফতানি কারক সমিতির সহ সভাপতি নুরুজ্জামান লিটন জানান, বর্তমানে বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৩০ হাজার মেট্রিক টন থাকলেও পণ্য রাখা হয় ১ থেকে দেড় লাখ মেট্রিক টন। বন্দরে স্থান সংকটের কারণে ভারত থেকে আসা আমদানি পণ্য বোঝাই ট্রাকগুলো পণ্য আনলোডের জন্য কয়েকদিনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আমদানিকারকরা ট্রাক ড্যামারেজের কারণে মোটা অংকের আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়েও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। চলতি অর্থবছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮০ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি রয়েছে। বন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন হলে বর্তমানে যে রাজস্ব আদায় হচ্ছে তার চেয়ে দ্বিগুণ রাজস্ব আয় সম্ভব বলে তিনি জানান।

বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আ: জলিল জানান, যানজট নিরসনে ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মানের জন্য ইতিমধ্যে ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। যানজট নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী ও প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন কাজ শেষ হলে যানজট নিরসন সম্ভব হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.