রাজশাহীতে ড. এস তাহের হত্যার দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর

0 ৫২

স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস তাহের আহমেদকে হত্যার দায়ে দন্ডিত দুই আসামি ড. মিয়া মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং জাহাঙ্গীর আলমের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা ১ মিনিটে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। এই রায় কার্যকর হওয়ায় সন্তোস প্রকাশ করেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ১৭ বছর পূর্বে ২০০৬ সালের ১ ফেব্র“য়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পশ্চিমপাড়া আবাসিক কোয়ার্টার থেকে নিখোঁজ হন অধ্যাপক এস তাহের। বাসাটিতে তিনি একাই থাকতেন। কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর আলম তার দেখাশোনা করতেন। পরদিন বাসাটির পেছনের ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় অধ্যাপক তাহেরের গলিত মরদেহ। এরপর মামলা হয়। ২০০৮ সালের ২২ মে রাজশাহীর দ্রুত বিচার আদালত ৪ জনকে ফাঁসি ও ২জনকে খালাস প্রদান করেন। পরবর্তীতে সময়ে উচ্চ আদালতে আপিলে অধ্যাপক তাহেরের বাড়ির কেয়ারটেকার আসামী জাহাঙ্গীর ও সহকর্মী ড. মহিউদ্দিনের মৃত্যুদন্ড রায় বহাল থাকে।

অপর ২জন আসামীর যাবতজীবন হয়। এরপর ১৭ বছর বিভিন্ন আইনী প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা ১ মিনিটে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। এরপর তাদের পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। দুইটি অ্যাম্বুলেন্স করে রাত ১২টায় তাদের লাশ কারাগার থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। জাহাঙ্গীরের দাফন করা হয় রাজশাহী নগরীর খোঁজাপুর কবরস্থানে। আর মহিউদ্দিনকে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তার গ্রামের বাড়িতে। এদিকে সন্ধ্যা থেকে কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, রাত ৮টা থেকে কারা ফটকে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ ও কারারক্ষী।

তবে গত মঙ্গলবার দুই আসামির পরিবারের ৩৫জন সদস্য তাদের সঙ্গে শেষ দেখা করেন। এরপর সকল প্রস্তুতি শেষ করে সুষ্ট ভাবে এই রায় কার্যকর করা হয়েছে। এই রায় কার্যকর হওয়ায় সন্তস প্রকাশ করেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা। তবে ঘটনা ভবিষ্যতে পুনরায় না ঘটে এমনটি প্রত্যাশা সকালের।

নিহত অধ্যাপক তাহের এর মেয়ে ও মামলার আইনজীবী সেগুফতা আহমেদ বলেন, রায় কার্যকরে তারা খুশি হয়েছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই রায় কার্যকর হয়েছে। কিন্তু আমরা ভাই বোন বাবা কে বাবা বলে ডাকতে পারি না। তার বুকে মাথা রাখতে পারি না। এইটা আমাদের বড় কষ্ট।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, জেল কোর্ড অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত ১০ টা ১ মিনিটে রায় কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তীতে লাশ তাদের পরিবারের সদস্যরা নিয়ে যান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.