রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু হলের রিডিং রুমে আসন সংকট; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

0 ১৮৮
রাবি প্রতিনিধি: ঘুণে খাওয়া কাঠ, জরাজীর্ণ টেবিল, চেয়ার সংকট, নেই পর্যাপ্ত বই রাখার তাক, বিদ্যুৎ চলে গেলে নেই আইপিএসের ব্যবস্থা। চিত্রটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের রিডিং রুমের।
শুধু তাই নয়, শিক্ষার্থী তুলনায় রয়েছে  আসন সংকট। পর্যাপ্ত চেয়ার না থাকায় ডাইনিং থেকে চেয়ার এনে ব্যবহার করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে নেই বিকল্প বাতির ব্যবস্থা।  ফলে মোবাইলের টর্চলাইটের আলোতে  পড়াশোনা করতে দেখা গেছে হলটির আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে। রিডিং রুমের এমন দুর্দশার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বারবার অভিযোগ জানালেও হল প্রশাসন কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ৩০ আসনবিশিষ্ট রিডিং রুম। যা শিক্ষার্থীদের জন্য যথেষ্ট নয়। চেয়ার সংকট থাকায় ডাইনিং থেকে বেঞ্চ নিয়ে এসে কষ্ট করে পড়াশোনা করেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও নেই কোনো আইপিএস-এর ব্যবস্থা। ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইলের আলো জ্বেলে পড়তে হয় তাদেরকে। বই রাখার জন্য নেই কোনো বুকসেলফ। পড়ার টেবিলেই বই গাদাগাদি করে রেখেই পড়তে হচ্ছে তাদেরকে। রিডিং রুমের ৪টা ডেক্স আছে যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বই সংরক্ষণ করে রাখার কথা থাকলেও কয়েক বছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। যা কোনো কাজেই লাগছে না।

রিডিং রুমের দুরবস্থা নিয়ে বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হাবিব রেজা বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান চর্চার অন্যতম কেন্দ্র হলো রিডিং রুম। যা থাকবে গোছানো পরিপাটি ও শিক্ষার্থীবান্ধব। আর আমাদের হলের রিডিং রুমের টেবিলগুলো কাঠ পোকায় কুরে কুরে খাচ্ছে। বই রাখার কোনো তাকের ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেক সমস্যা পোহাতে হয় আমাদেরকে। এত অল্প আসন যে জায়গা না পেয়ে অনেক সময় ফিরে যেতে হয়। হলের ডাইনিং ক্যান্টিনে আইপিএস থাকে অথচ রিডিং রুমে কোনো আইপিএস নেই। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফোনের আলো জ্বেলে পড়তে হয়। যা খুবই লজ্জাজনক। হল প্রশাসনকে এ বিষয়ে জানালে তাঁরা এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা দ্রুত এর সংস্কার চাই।
তুহিনুজ্জামান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, রিডিং রুম আকারে তুলনামূলক ছোট। বিদ্যুৎ চলে গেলে রুমে পড়াশুনায় অনেক সমস্যা দেখা যায় আইপিএস ব্যবস্থা না থাকার কারণে। বই রাখার কোনো সেলফ নেই। নেই পর্যাপ্ত চেয়ার টেবিলের ব্যবস্থা। এছাড়াও রুমে ওয়াইফাই-এর পর্যাপ্ত গতির সমস্যা রয়েছে। রিডিং রুমের পাশে একটি ওয়াশরুম থাকলেও সেটা শুধু  হল অফিসের কর্মকর্তারা ব্যবহার করেন এবং অন্যান্য সময় তালাবদ্ধ দেখা যায়। ফলে আমাদের ওয়াশরুম ব্যবহার করার জন্য পাশে খানিকটা দূরে অন্য ব্লকের ওয়াশরুমে যেতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু হলের প্রাধ্যক্ষ শাইখুল ইসলাম মামুন জিহাদ বলেন, হলের শিক্ষার্থীরা আমাদের কাছে রিডিং রুমের আসন সংখ্যা বাড়ানোর জন্য লিখিত আবেদন দিয়েছেন। আমরা সেটি বিবেচনা করে ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু সেখান থেকে এখনো আমরা কোনো রকম আশ্বাস পাইনি। আমরা চাইলেই রিডিং রুমের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবো না তার জন্যে মোটা অংকের টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এতো টাকা হল প্রশাসনের নেই। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.