রাবিতে প্রথমবারের মতো পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশীপ চালু

0 ১৩৯
রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষনা ও ফেলোশীপ। পিএইচ.ডি. ডিগ্রি অর্জনের পর নতুন গবেষণা সম্পাদনের লক্ষ্যে কোনো গবেষক  বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ফেলো হিসেবে ভর্তি হতে পারবেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ৫২০তম সিন্ডিকেট সভায় এই ফেলোশিপ নীতিমালাটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৬ মাস থেকে ১২ মাস হবে এই ফেলোশিপের গবেষণার মেয়াদকাল।তবে গবেষণা কাজের জন্য এই মেয়াদ সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
আবেদনকারীর যোগ্যতার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর গবেষণা প্রস্তাব অবশ্যই ইনস্টিটিউটের/বিভাগের ও সুপারভাইজারের গবেষণা ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত হতে হবে এবং সুপারভাইজারের সম্মতিপ্রাপ্ত হতে হবে। বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীর পিএইচ.ডি. গবেষণা ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কিত Thomson, Reuters Indexed/Scopus Indexed জার্নালে কমপক্ষে ৩টি গবেষণা প্রবন্ধ First Author অথবা Corresponding Author হিসেবে থাকতে হবে। মানবিক ও বাণিজ্য শাখার বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন Peer reviewed/Scopus. Indexed জার্নালে First Author অথবা Corresponding Author হিসেবে কমপক্ষে ২টি গবেষণা প্রবন্ধ থাকতে হবে। গবেষণা প্রবন্ধগুলো গবেষকের পিএইচ.ডি. গবেষণার সাথে সম্পর্কিত হতে হবে।
তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক,কর্মকর্তা পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো হিসেবে বিবেচিত হতে পারবে না। তবে কোনো শিক্ষক,কর্মকর্তা যদি বিশ্ববিদ্যালরের বাইরের কোনো উৎস হতে ফেলোশীপ প্রাপ্ত হন সেক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য হবে না বলে উল্লেখ্য করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, আবেদনকারী পিএইচ.ডি. করার ৭ বছরের মধ্যে পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় বহির্ভূত উৎস থেকে কেউ যদি গবেষণা ফান্ড/ফেলোশীপ প্রাপ্ত হন তবে সেক্ষেত্রে ৭ বছর সময়কাল শর্তটি শিথিলযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এছাড়া আবেদনকারী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত হন, তাহলে ফেলোশীপ প্রাপ্তির সময়কালীন উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে তার ছুটি অথবা বাধ্যতামূলক হতে হবে।
আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিষয়ে হয়েছে,
একজন পোস্ট-ডক্টরাল ফেলো ৫০ হাজার টাকা হারে মাসিক ফেলোশীপ পাবেন। বিদেশী গবেষকের ৫০০ ইউএস ডলার প্রদান করা হবে।এছাড়া ফেলো ইনস্টিটিউট/বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরী থেকে বই/জার্নাল ইস্যু করতে ও পড়তে পারবেন। ইন্টারনেট ওয়াই-ফাই ব্যবহারে সুবিধা পাবেন। ফেলো আবাসন, পরিবহন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী এবং চিকিৎসা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বীমার সুবিধাদি বিধি মোতাবেক পাবেন।
ভর্তি প্রক্রিয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, অর্থ সংস্থান সাপেক্ষে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুসদের জন্য একাডেমিক শাখা বছরের প্রারম্ভে একবার পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশীপ প্রদানের দরখাস্ত আহ্বান করা যাবে।আবেদনকারী ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে তাঁর গবেষণা প্রস্তাব, জীবনবৃত্তান্ত, পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতা, পিএইচ.ডি সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি, সুপারভাইজারের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত সংযুক্ত করবেন।
প্রত্যেক ইনস্টিটিউট/অনুষদ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের নিয়ে কমপক্ষে ৩ সদস্যবিশিষ্ট পোস্ট-ডক্টরাল ফেলোশীপ মূল্যায়ন কমিটি গঠন করবেন এবং এই কমিটি প্রার্থী নির্বাচন চূড়ান্ত করবেন। প্রার্থী নির্বাচন চূড়ান্ত হলে বিভাগ অনুষদের ক্ষেত্রে উপাচার্য তাঁকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন ও নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.