লোহিত সাগরে ইইউয়ের নৌ-অভিযান শুরু

0 ৯০
লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্রবাহী টহল জাহাজ। এএফপির ফাইল ছবি

লোহিত সাগরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো রক্ষা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে৷ তবে, ইয়েমেনের ভূখণ্ডে হামলা চালাবে না ইইউ৷ অভিযানে অংশ নিতে আপাতত চারটি দেশ জাহাজ পাঠাচ্ছে৷ গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজে আক্রমণের দাবি করে আসছে হুতিরা।

ইউক্রেনের জন্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং ট্রাম্প শিবিরের চাপে নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন লোহিত সাগরে অভিযান চালানোর এ ঘোষণা দিয়েছে৷ ইইউর দাবি, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দৌরাত্ম্যের কারণে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে৷ অনেক কোম্পানি বাধ্য হয়ে বিকল্প ও অনেক দীর্ঘ পথে জাহাজ চালাচ্ছে৷

ইইউর অর্থনীতিবিষয়ক কমিশনার পাওলো জেন্তিলোনি বলেন, দীর্ঘ পথে জাহাজ চালানোয় ১০ থেকে ১৫ দিন বিলম্ব হয়। ফলে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য পাঠানোর ব্যয় প্রায় ৪০০ শতাংশ বেড়ে যাচ্ছে৷ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কিছু দেশ যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে ইরান সমর্থিত হুতিদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে৷ এবার ইইউ সংঘবদ্ধভাবে সেখানে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিল৷

গতকাল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইইউ আনুষ্ঠানিকভাবে লোহিত সাগরে নৌবাহিনীর অভিযান ঘোষণা করল৷ গ্রিক ভাষায় ‘আসপিদেস’ বা ‘ঢাল’ নামের এই অভিযানের আওতায় চারটি জাহাজ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে লোহিত সাগরে পৌঁছে যাবে৷ এখনও পর্যন্ত ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও বেলজিয়াম জাহাজ পাঠিয়ে এই অভিযানে অবদান রাখতে চায়৷ তবে এক বছর মেয়াদের এই অভিযানে শুধু লোহিত সাগরে বেসরকারি জাহাজের সুরক্ষার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে৷ ইয়েমেনের ভূখণ্ডে কোনো হামলা চালাবে না ইইউ৷ শুধু হামলা ঘটলে পাল্টা জবাব দিতে পারবে যুদ্ধজাহাজগুলো৷ লোহিত সাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত এলাকায় সেই অভিযান চলবে৷ জাহাজের পাশাপাশি আকাশ থেকে সতর্কীকরণ ব্যবস্থাও মোতায়েন করা হবে৷

ইইউ কমিশন প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন বলেন, সেখানে অবাধে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইইউ আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সঙ্গে কাজ করবে৷ ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি বলেন, সাধারণ ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা ক্ষমতা গড়ে তোলার পথে এটি একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ৷

সোমবার সন্ধ্যায় হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি জাহাজের ওপর হামলা চালিয়েছে৷ যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নথিভুক্ত জাহাজগুলোর ওপর নির্দিষ্টভাবে হামলা চালানো হয়েছে৷ এর আগে অ্যামব্রে নামের এক সামুদ্রিক নিরাপত্তা কোম্পানি জানিয়েছিল, গ্রিসের পতাকাধারী মার্কিন মালিকানার একটি জাহাজের ওপর দুই ঘণ্টায় দুটি হামলা চালানো হয়েছে৷

গাজার ওপর ইসরায়েলি হামলার কারণ দেখিয়ে হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে৷ কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী সাদ আল-কাবি সোমবার গাজায় অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানান৷ তিনি গাজার পরিস্থিতিকে ‘সমস্যার শিকড়’ হিসেবে বর্ণনা করে অস্ত্রবিরতির মাধ্যমে গোটা বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রভাব বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন৷ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাতাহ আল সিসি জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে উত্তেজনার কারণে সুয়েজ ক্যানেলের রাজস্ব চলতি বছরে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কমে গেছে৷

Leave A Reply

Your email address will not be published.